চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সভায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকের পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আচরণকে অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছ কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
ক্যাবের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছরের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহর অদক্ষ শাসন, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মীয়করণ ও গ্রাহক স্বার্থকে উপেক্ষা করার কারণে প্রতিষ্ঠার ৬৩ বছরেও চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরবাসীর চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। এখনও ৩০ শতাংশ এলাকায় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়নি। সেখানে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে ১ম ওয়াসার বোর্ড সভায় বিগত ১৭ বছরের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা, লুটপাট বন্ধে কোন পরিকল্পনা গ্রহন না করে গ্রাহকদের ওপর নতুন করে দামবৃদ্ধির খড়ক চাপিয়ে দেবার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে এ প্রস্তাব প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রবিবার, ২ আগস্ট গণমাধ্যমে পাঠানো ক্যাবের এক বিবৃতেতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন— ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর ও যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।
এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যেখানে জনবান্ধব, কল্যান রাস্ট্র গঠনের জন্য প্রতিনিয়তই সংগ্রাম করছেন সেখানে একটি মহল সাধারন মানুষের জীবন-জীবিকায় অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ানোর জন্য নানা ফর্মুলা হাজির করছেন। সবজি, চাল, ডালসহ সবনিত্য খাদ্য-পণ্য এবং সকল সেবা সার্ভিসের দাম বৃদ্ধির যন্ত্রণায় যেখানে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস, সেখানে ‘মরার ওপর খারার ঘাঁ’ হিসেবে ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধি সাধারন মানুষের জীবন যাত্রাকে অসহনীয় করে তুলবে। যা জুলাই চেতনার পরিপন্থী ও বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ। তাই গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে প্রথম বোর্ড সভায় পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবটি অযৌক্তিক ও অগ্রহনযোগ্য।
ক্যাব নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ২০১৯ সালের ২৫ মে অনুষ্ঠিত ওয়াসার ৫১তম সভায় গড়বিল আদায়ের কারণে ২৭ হাজার গ্রাহক ৫ ইউনিট পানি ব্যবহার করে ৩০ ইউনিটের বিল দেয়ার ঘটনা উত্থাপিত হলে ওয়াসার তৎকালীন বোর্ড সদস্য জাফর সাদেককে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি এ ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন হয়নি এবং এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নানাবিধ অনিয়ম, গড় বিল আদায়ের মতো পুকুর চুরি, পানির দৈনিক উৎপাদন নিয়ে হেরফের, ডাটাবেস ছাড়াই উৎপাদন খরচ নির্ধারণ ও বিতরণে শুভংকরের ফাঁকির মতো ঘটনাগুলি উদঘাটনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ক্যাব। ওয়াসার অভ্যন্তরে বিগত ১৭ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতি উদঘাটন করে চট্টগ্রামবাসীর অন্যতম সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকে আদর্শ ভোক্তা বান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দাবিও জানানো হয়।

নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৮ দফায় ১৬ বছর অবৈধভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে পাওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক বিতর্কিত এমডি পদ ছেড়ে না দিয়ে নানা চক্রান্ত করে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে অনিয়ম দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যসহ নিজের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। তার সময়ে ১৪ বারের বেশি পানির দাম বাড়িয়ে চট্টগ্রামবাসীর ওপর পানির অতিরিক্ত দামের বোঝা চাপানো হয়েছিল। এখনও শহরের এক তৃতীয়ংশ মানুষ ওয়াসার পানি পায় না, আর ময়লা, লবনাক্ত পানির যন্ত্রনা ও ভুতড়ে বিলের যন্ত্রনায় জর্জরিত। ওয়াসার বাস্তবায়ন করা ও চলমান প্রতিটি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। নিজের আত্মীয়-স্বজনকে পদোন্নতি দেয়া, এমনকি নিজের মেয়ের প্রতিষ্ঠানকে সুয়্যারেজ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ দেয়াসহ হাজারো অনিয়মে জড়িত।
পুরো নগরে পানির জন্য হাহাকার, নগরজুড়ে রাস্তা খোড়াখুড়ি, পানির লিকেজ ও বিপুল পরিমান পানি প্রতিদিন নালা, নর্দমায় পড়ে গিয়ে অপচয় হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় পানির জন্য হাহাকার, ময়লা ও দুর্গন্ধময় পানি, হালিশহর এলাকায় পানির লাইনে স্যুয়ারেজ এর লাইন যুক্ত হয়ে পানি দূষণে গত বছর জন্ডিসসহ পানিবাহিত রোগ মহামারী আকারে রূপ নিলেও ওয়াসা কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম ওয়াসায় বৈধ ভোক্তা প্রতিনিধি মনোনীত করার বিধানও মানেননি কর্তৃপক্ষ।
পতাকানিউজ/আরবি

