চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মাত্র ২৪ শতক জমি অস্থায়ীভাবে ইজারা দিতে গিয়ে এমন এক জটিল নাটকের জন্ম দিয়েছে, যেখানে নৌ-মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কাগজে-কাগজে নির্দেশদাতা, কিন্তু বাস্তবে সবকিছুই ‘মিথ্যে’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশনাকেই এখন ‘ক্লারিক্যাল মিস্টেক’ উল্লেখ করছে। তবুও মিথ্যা তথ্য যুক্ত সেই এজেন্ডা ও আবেদন প্রত্যাহার হয়নি; বরং জমি বরাদ্দও হয়ে গেছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—জমির আবেদন, সুপারিশ, লিজ অনুমোদন, কাঠামো নির্মাণের ছুটোছুটি—সবকিছু যেন এক অদৃশ্য হাত একই ছকে সাজিয়ে দিয়েছে। আর সেই হাতের অন্যতম চরিত্র—সুব্রত মহাজন, যার ব্যবসা-পরিচয় পর্যন্ত মিলছে না কাগজের সঙ্গে।
উপদেষ্টার নির্দেশনা— কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা?
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, নৌ-মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এ জমি বরােদ্দর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। অথচ উপদেষ্টা বলছেন, মৌখিক বা লিখিত কোনো নির্দেশনাই তিনি দেননি। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, উপদেষ্টার নির্দেশনার বিষয়টি ‘ক্লারিক্যাল মিস্টেক’। যদিও মিথ্যা তথ্যে আবেদনের এ ইজারা থেমে থাকেনি।
একই জায়গা এর আগে মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিবও লিজ দেয়ার ব্যাপারে বন্দরকে চিঠি দেন। ‘উপদেষ্টার নির্দেশনা’ ও উপসচিবের চিঠির আলোকে ইতোমধ্যে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন চাক্তাই আছদগঞ্জ এলাকার সুজাকাঠগড় মৌজার ওই ২৪ শতাংশ জমি ছয় মাসের জন্য অস্থায়ী ইজারা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বরাদ্দ ৬ মাসের, নবায়ন বছরের পর বছর
চট্টগ্রাম বন্দরের গত ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখের বোর্ড সভার এজেন্ডা (নথি নং-১৮.১৩.০০০০.৫০০.৩৫.০২২.২৫) পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এজেন্ডাটি প্রস্তুত করেন বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক (ভূমি) মো. রায়হান উদ্দিন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর (রায়হান) যোগসাজশে বন্দরের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এ জায়গা ভাড়া লিজ দেয়া হয়। অস্থায়ী ৬ মাসের হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হলেও বছরের পর বছর নবায়ন করা হয় এসব চুক্তি। এমন নজির বন্দরের প্রায় সব অস্থায়ী বরাদ্দের ক্ষেত্রেই।
ওই এজেন্ডা পর্যালোচনায় সভার সিদ্ধান্ত নং-১৯৬৭০ অনুসারে ৭টি শর্তে সুজাকাঠগড় মৌজার বিএস খতিয়ান নং-০৩, বিএস দাগ নং-৫৫১ (অংশ) এর আন্দরে শূণ্য দশমিক দুই চার একর (২৪ শতাংশ) অব্যবহৃত খালি জায়গা মেসার্স পূবালী টেডার্স এবং মেসার্স রহমান ট্রেডিংয়ের অনুকূলে প্রতি বর্গফুট বার্ষিক ৪৬ টাকা হারে স্পেস রেন্টের ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে ৬ মাসের জন্য লাইসেন্স/বরাদ্দ দেয়া হয়। বন্দর সচিব, বোর্ডের তিন সদস্য ও চেয়ারম্যান মিলে এ সিদ্ধান্তে সই করেন। তবে বরাদ্দ হস্তান্তর হওয়ার পর আলোচনা তৈরি হয়ে নৌ-উপদেষ্টার নির্দেশনার বিষয়টিকে ‘ক্লারিকেল মিস্টেক’ দাবি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
৩ দিনের মাথায় কাঁচা টিনশেড নির্মাণ
হাতে আসা ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বরাদ্দ পরবর্তী যথারীতি গত ৯ অক্টোবর জায়গাটি ইজারাগ্রহিতা দুই ব্যক্তিকে দখল বুঝিয়ে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২৯ সেপ্টেম্বরের ওই বরাদ্দ অনুমোদনের একটি শর্ত ছিলো- ‘উক্ত জায়গায় কোন প্রকার কাঠামো নির্মাণ করা যাবে না। শুধুমাত্র খোলা জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।’ কিন্তু বরাদ্দ পাওয়ার ৩ দিনের মাথায় ১২ অক্টোবর ৪ হাজার বর্গফুটের একটি কাঁচা টিনশেড নির্মাণের আবেদন করেন দুই লিজগ্রহীতা। পরের ৪ নভেম্বর আবেদিত ৪ হাজার বর্গফুটে কাঁচা টিনশেড নির্মাণের অনুমোদন দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। ১৬ নভেম্বর অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোাদনের বিষয়ে দুই লিজগ্রহিতাকে অবগত করে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে ৭ ডিসেম্বর সরেজমিনে গিয়ে বরাদ্দ জায়গাটির লোহার ফটক তালাবন্ধ পাওয়া গেছে। কোন অবকাঠামো নেই জায়গাটিতে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত হাসিনা সরকারের শেষ সময়ে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে আছদগঞ্জ এলাকার বন্দরের ২৪ শতক জমি স্পেস রেন্টের ভিত্তিতে অস্থায়ী লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নিজস্ব প্যাডে আবেদন করে খাতুনগঞ্জের মেসার্স পূবালী ট্রেডার্সের স্বত্তাধীকারী সুব্রত মহাজন। আবেদনে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেয়া হয়, ২২২, লক্ষী বিতান, খাতুনগঞ্জ।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়- আবেদনকারী মেসার্স পূবালী ট্রেডার্স এর মাধ্যমে বহু বছর যাবত বন্দর সংশ্লিষ্ট আমদানিকৃত খাদ্যশস্য ডাল, গম, চনা (ছোলা), ভুট্টা ইত্যাদি মালামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ করে আসছেন। ব্যবসায়ীক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় উক্ত মালামালা সংরক্ষণ ও সরবরাহের যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ীক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নগরীর সুজাকাটগর মৌজার চামড়ার গুদাম এলাকায় আছদগঞ্জ রোডে বন্দরের ২৪ শতাংশ খালি জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। ওই জায়গাটুকু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য স্পেপ রেন্টের ভিত্তিতে অস্থায়ী লাইসেন্স (নবায়নযোগ্য) পাওয়ার আবেদন করেন। বরাদ্দ পেলে ওই জায়গায় ৮৫ ফুট বাই ৯০ ফুট পরিমাপের একটি কাঁচা/সেমিপাকা শেড নির্মাণ করে মালামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হবে। বন্দরের প্রচলিত নিয়ম কানুন মেনে, ধার্য ফি পরিশোধ করার বিষয়ে সম্মত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

ওই সময়ে বরাদ্দ পেতে ব্যর্থ হয়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই জায়গাটি বরাদ্দ পেতে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সরাসরি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন সুব্রত মহাজন। এ বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য পরের ২৪ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নজরুল ইসলাম আজাদ। নজরুল ইসলাম আজাদ বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পদায়িত রয়েছেন।
ঠিকানা আছে, অফিস নেই
সর্বশেষ জায়গাটি বরাদ্দ পেতে চলতি বছরের গত ২৩ সেপ্টেম্বর পুণরায় বন্দর চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করে সুব্রত মহাজন। তবে এবার পূবালী টেডার্সের একই প্যাডে আবেদনকারী হিসেবে সাথে রাখা হয় ১২৯৫, আশরাফ আলী রোড ঠিকানার মেসার্স রহমান ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধীকারী মোস্তাফিজুর রহমানকে। আবেদনে মেসার্স পূবালী টেডার্স এবং মেসার্স রহমান ট্রেডিং উভয়ের মাধ্যমে বহু বছর যাবৎ বন্দর সংশ্লিষ্ট আমদানিকৃত খাদ্যশস্য ডাল, গম, চনা, ভুট্টা ইত্যাদি মালামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ‘সুব্রত মহাজন নিজেকে আমদানিকৃত খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী পরিচয়ে প্রথমে জায়গাটি বরাদ্দের আবেদন করেন। এখন তিনি ওই ব্যবসাই করেন না। পূবালী টেডার্স নামের তাঁর প্রতিষ্ঠানটিও প্যাডসর্বস্ব। অন্যদিকে আরেক আবেদনকারী মোস্তাফিজুর রহমান সুতা ব্যবসায়ী। তাকে খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সাজিয়ে অংশীদার বানিয়ে শেষ আবেদনটি করেন সুব্রত। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই জায়গাটি বরাদ্দ নেয়ার বিষয়টি অনুসন্ধানে উঠে আসে।
সরেজমিনে সুব্রত মহাজনের ব্যবসায়িক ঠিকানা ২২২, লক্ষীবিতান, খাতুনগঞ্জে গিয়ে মেসার্স পূবালী টেডার্স নামে কোন প্রতিষ্ঠানের অস্থিত্ব পাওয়া যায়নি। ওই ঠিকানায় সুব্রত মহাজনের ভাই দেবু মহাজনের মেসার্স এ এম ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজন বলেন, ‘সুব্রত ওখানে থাকেন না, পূর্বালী ট্রেডার্সও তারা চেনেন না।’
অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের ১২৯৫, আশরাফ আলী রোড ঠিকানায় মেসার্স রহমান ট্রেডিংয়ের কোন সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। তবে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানান যায়, ওই ঠিকানার চারতলা ভবনটি মোস্তাফিজুর রহমানের। রূপালি ব্যাংক ওমর আলী মার্কেট শাখাটি ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায়। মোস্তাফিজুর রহমান সুতোর ব্যবসা করেন।
আবেদনের মাত্র ৬ দিনের মাথায় বরাদ্দ
এদিকে সর্বশেষ আবেদনের মাত্র ৬ দিনের মাথায় অতি দ্রুততার সাথে তাদের দুইজনের অনুকূলে জায়গাটি বরাদ্দ অনুমোদন দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখের বোর্ড সভার এজেন্ডার সার সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়- ‘সুজাকাঠগড় মৌজার ২৪ শতাংশ জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি ও ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মেসার্স পূবালী টেডার্স এবং মেসার্স রহমান ট্রেডিং হতে দুটি আবেদন পাওয়া যায়। এছাড়াও আবেদনের সাথে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নজরুল ইসলাম আজাদ সাক্ষরিত একটি পত্রও চবক চেয়ারম্যান বরাবরে প্রেরণ করেন ও ২০২৫ সালের ৩ জুলাই নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের চবক শাখা হতে চেয়ারম্যান বরাবরে একটি পত্র দেয়া হয় এবং নৌ-উপদেষ্টা মহোদয় উল্লেখিত জায়গা অস্থায়ীভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্পেস রেন্টের ভিত্তিতে বরাদ্দ প্রদানের বিষয়ে চেয়ারম্যান/চবক মহোদয়কে নির্দেশনা প্রদান করেন।’
ওই এজেন্ডার আরেক অংশে উল্লেখ করা হয়, ‘বিগত ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তারিখে উক্ত জায়গা বরাদ্দ প্রদানের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহবান করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে উক্ত দরপত্র বাতিল হয় এবং আজ (বরাদ্দ অনুমোদনের তারিখ) অবধি উক্ত প্রস্তাবিত জায়গা অব্যবহৃত খালি অবস্থায় আছে এবং খালি অবস্থায় থাকায় বন্দর রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।’
তবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল যেদিন ওই দরপত্রের নোটিশ দেয়া হয়, দিনটি ছিলো ঈদের ছুটির পরেরদিন। এমনকি সমালোচনার পর দরপত্রটি বাতিল করা হয় বলে বন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে।
কী বলছেন সুব্রত-মোস্তাফিজ
এ ব্যপারে জানতে চাইলে লিজগ্রহিতা সুব্রত মহাজন বলেন, ‘ওই জায়গা এখন আমার অধীনে নাই। ওটি মোস্তাফিজুর রহমানের অধীনে চলে গেছে। আমার টাকা পয়সা নাইতো, তাই বন্দরে আবেদন করে ওনারে (মোস্তাফিজ) দিয়ে দিছি।
নৌ-উপদেষ্টা সুপারিশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই জায়গার জন্য সবকিছু মন্ত্রণালয় থেকে অর্ডার হয়েছে। ওখানে বন্দর চেয়ারম্যানকে বলে দিসে, চেয়ারম্যান সিস্টেম করে লাইসেন্স দিয়েছে।’
উপদেষ্টার সাথে কিভাবে সংযোগ তৈরি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি (প্রতিবেদক) ওটা বন্দরের কাছ থেকে নেন না। সবকিছু আমার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করলে হবে?’
আবেদনে যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, বর্তমানে ওই ঠিকানায় না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার ব্যবসা বাণিজ্য নেই। তাই ওখানে থাকি না।’
পরে কথা হয় মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ‘জায়গাটা আগেও পেয়েছিলাম। ৫ বছর আগে। যে কোন কারণে তখন আমার টাকাও মাইর গেছে। ওইসময় অন্য আরেকজন লোক আমাকে বলে- বন্দরের সাথে আমাদের লাইন আছে, আমি জায়গাটা পাবেন। ওর নাম টিটু, ওমর আলী মার্কেটের দোকানদার। এজন্য টিটুকে চার লাখ টাকাও দিছিলাম। ওই টাকা টিটু বন্দরে দিয়েছে বলেছিল, আমি কিছু জানি না, আমিতো সোজা মানুষ। তখন থেকে টিটুর কাছ থেকে জায়গাটি আমি ব্যবহার করতাম। হঠাৎ একদিন বন্দর থেকে লোকজন এসে আমাকে উচ্ছেদ করে। তখন বিষয়টি আমি তাদের জানিয়েছিলাম।’
বর্তমানে রেস্ট লাইসেন্স নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সুব্রত মহাজন জায়গাটি নেয়ার জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে এসে আমাকে বললো- তার কাছে টাকা-পয়সা নাই। তখন জায়গাটি পার্টনারে আমাকে নিতে বললো।’
ওই জায়গা অস্থায়ী ভাড়া দেয়ার বিষয়ে উপদেষ্টার নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উনি (সুব্রত) আওয়ামী লীগের আমল থেকে জায়গাটি নেয়ার জন্য লবিং করে আসছিল। এটির জন্য ওনি লেগে ছিল। বন্দরে সব যোগাযোগ সুব্রত করেছে। এখন পুরোপুরি আমাকে দিয়ে দিয়েছে। তবে আমি জায়গাটি নিয়ে ভুল করেছি। অনেক বেশি ভাড়া। এতো ভাড়া জানলে নিতাম না।’
তিনি বলেন, ‘আমি চাল ডালের ব্যবসা করি না। সুতার ব্যবসা করি। এলাকায় আমার সুনাম আছে।’
এদিকে জায়গাটি অস্থায়ী লিজ দেয়ার নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত হতে নৌ-উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন জবাব দেননি। পরে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় নৌ উপদেষ্টার একান্ত সচিব (সরকারের উপসচিব) মো. জাহিদুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি উপদেষ্টার সাথে সফরে ব্যস্ত রয়েছেন জানান। পরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জায়গাটি বরাদ্দের বিষয়ে নথি উপস্থাপনের পুরো কাজটিই করেন চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক (এস্টেট-২) মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন। এ জানতে চাইলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমি স্পোকস পারসন নই। সচিব মহোদয় বিষয়টিতে বলতে পারবেন।’
এ বিষয়ে বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এজেন্ডার সার সংক্ষেপে উল্লেখ করা ‘‘উপদেষ্টার নির্দেশনার’’ বিষয়টি ক্লারিকেল মিস্টেক। এ ধরণের বিষয়ে কখনো উপদেষ্টা মহোদয় সুপারিশ করেন না, এটিতেও করেননি। জায়গাটি বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আসা প্রস্তাব আলোচনা করেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তবে মিথ্যা তথ্যে বন্দরের জায়গা বরাদ্দ নেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
পতাকানিউজ/কেএস

