চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম বন্দর আবারও ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছে। বর্তমানে বহির্নোঙরে কোনো জাহাজকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। ফলে জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম কমে এসে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি ফিরেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত পরিকল্পনা, নিবিড় তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয়ের ফলেই এই অবস্থায় ফিরে আসা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।
দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে বন্দরের সক্ষমতা সরাসরি দেশের অর্থনীতি, শিল্প ও ভোক্তা বাজারের সঙ্গে যুক্ত।
একসময় এই বন্দরের প্রধান সমস্যা ছিল জাহাজজট। বহির্নোঙরে জাহাজকে ৫ থেকে ৭ দিন, কখনো কখনো ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। এতে শিপিং কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত ডেমারেজ (অপেক্ষা ভাড়া) দিতে হতো, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যোগ হয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করত।
এ ছাড়া জাহাজজটের কারণে আমদানিকারকের পণ্য ছাড়তে দেরি হতো, কাঁচামাল সময়মতো না পৌঁছানোয় শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতো এবং রপ্তানিকারকেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠাতে না পারার ঝুঁকিতে পড়তেন। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিত।
ধারাবাহিক সাফল্যের পথে
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করে চট্টগ্রাম বন্দর। এরপর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে সেই অবস্থা বজায় ছিল। তবে জানুয়ারির শেষ দিকে এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতে কর্মবিরতি ও কিছু জটিলতার কারণে বন্দরের কার্যক্রমে সাময়িক ছন্দপতন ঘটে।
পরবর্তীতে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম চালু হওয়ায় আবারও জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, ঈদের ছুটির সময়ও বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা হয়। ঈদের আগে জাহাজের অপেক্ষার সময় ৩ থেকে ৫ দিনে উঠলেও বাড়তি নজরদারি ও সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে অপেক্ষা আবার শূন্যে নেমে আসে। এখন জাহাজ দ্রুত পণ্য ওঠানামা করে বন্দর ত্যাগ করতে পারছে।
ব্যবসা ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
জিরো ওয়েটিং টাইমের ফলে সবচেয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমছে
আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন
রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছেন
লজিস্টিক ব্যয় কমায় বাজারে পণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে
বন্দর সূত্র জানায়, রমজান মাসের শুরু থেকেই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঈদের ছুটিতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।
বন্দর ব্যবহারীদের ভাষ্যমতে, বন্দরের এ ধারাবাহিক কর্মদক্ষতা বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
-পতাকানিউজ

