শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ভবনের ভেতরে দুই উপ-উপাচার্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তালা খোলা হবে না বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’-এর ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
চবি ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকদের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চলে, কোনো রাজাকারের টাকায় নয়। একজন উপ-উপাচার্য এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না। তাই তাকে পদত্যাগ করতে হবে।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, আমি একটা প্রোগ্রাম আছি এ মুহূর্তে আমি কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
এদিকে, ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে ইতিহাস বিভাগ তাদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানকে বয়কট করেছে। পাশাপাশি আরও দুটি বিভাগ তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল ৫৪তম শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘আমার প্রশ্ন, যে সময় আমি দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছি জীবিত থাকবো নাকি মৃত থাকবো সে বিষয়ে কোনো ফয়সালা হয়নি সেই সময়ে পাকিস্তানের যোদ্ধারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে, এটা আমি মনে করি রীতিমতো অবান্তর।’
পতাকানিউজ/কেএস

