চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মীর বিরুদ্ধে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের এক ছাত্রীর সাথে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ ও তার সহপাঠীদেরকে শারীরিক আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার, ২০ অক্টোবর এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ।
অভিযুক্ত নাইমুর রহমান রাফসান ক্রিমিনোলজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সদ্য অনুষ্ঠিত চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে এএফ রহমান হল ছাত্র সংসদের খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন প্লাটফর্মে ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী নাইমুর রহমান রাফসান একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য করেন। এতে ওই ছাত্রীর সহপাঠী এবং উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিব্রত ও অপমানিত হন।
ঘটনার পর ১৯ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অভিযুক্ত রাফসান উত্তেজিত হয়ে ওই ছাত্রীর এক সহপাঠীর ওপর শারীরিকভাবে আঘাত হানেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সহপাঠীদের ওপর দলবদ্ধ হামলার চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। রাফসানকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করলে এতে তার দুই সহপাঠী আহত হন। এ ঘটনায় বিভাগীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘তার দ্বারা আমি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির ও ডাবলমিনিং কথার মাধ্যমে যৌন হয়রানি করেছে। আমি এখন খুবই ট্রমাটাইস অবস্থায়, সে (নাইমুর) আমাদেরকে বলেছে সে কল দিলে এখন ২০-৩০ জন আসবে। আমি এতটাই ট্রমাটাইজ যে বাসা থেকে বের হতে পারছি না।’
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে নাইমুর রহমান রাফসান বলেন, ‘এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এটা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। এমন অভিযোগ পত্র দেখিনি। অভিযোগ পত্র পেলে তারপর দেখা যাবে।’’ এমন ঘটনা না ঘটলে অভিযোগপত্র জমা দেয়া সম্পর্কে কোন মন্তব্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি কিছু জানিনা এখন কোন মন্তব্য করতে চাই না।’
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্যাহ আল নোমান বলেন, এই প্রশাসন হচ্ছে শিবিরের ব্যাকাফ প্রশাসন। না হলে একমাস আগের ঘটনা আজকে অভিযোগ জমা নেয় কেন? আর আমি ব্যক্তিগতভাবে নাইমুর রহমান রাফসান নামে এমন কাউকে চিনি না। অভিযোগপত্র সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। যার কারণে কোন মন্তব্য করতে পারছি না।
অভিযোগপত্র জমা দেয়া সম্পর্কে ক্রিমিনিলোজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব মৌমিতা পাল বলেন, আজকে একটা অভিযোগপত্র পেয়েছি। সেটা ডিপার্টমেন্টের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখবেন।
পতাকানিউজ/এসএইচ/কেএস

