ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ট্রেনের খাবার গাড়ির কর্মচারীকে (ক্যান্টিন বয়) গ্রেপ্তার করেছে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ।
সোমবার, ৩১ আগস্ট রাত দেড়টায় ট্রেনের খাবার গাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত একটি কামরায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাত ৩টায় সান্তাহার রেলওয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।
গ্রেপ্তার ক্যান্টিন বয়ের নাম আবু বক্কর সিদ্দীক। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে আজ, মঙ্গলবার সকালে ওই নারীকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দীককে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল হোসেন।
অপরদিকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে জড়িত দুই পুলিশসহ মোট ৫ জনের নামে থানায় মামলা করেছে ধর্ষণের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী ওই নারী। মামলায় দুই পুলিশের নাম উল্লেখ করায় সাংবাদিকদের তথ্য দিতে গড়িমসি করছেন ওসি।
এজাহারের বরাতে ওসি জানান, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ওই নারী (৪২) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে পার্বতীপুর যাওয়ার জন্য কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনে আসন না পেয়ে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে কর্তব্যরত রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা তাকে ট্রেনের খাবার গাড়িতে নিয়ে বসার ব্যবস্থা করে দেন।
ওসি আরও জানালেন, পরে খাবার গাড়ির কর্মচারী আবু বক্কর সিদ্দীক কৌশলে ওই নারীকে খাবার গাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত একটি কামরায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ট্রেনটি সান্তাহার জংশন স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পর ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চান। পরে ট্রেনটি পার্বতীপুর স্টেশনে পৌঁছালে রেলওয়ে পুলিশ আবু বক্কর সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করে এবং ওই নারীকে উদ্ধার করে সান্তাহার রেলওয়ে থানার হেফাজতে নেয়।

ওসি দুলাল হোসেন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারীকে পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আসামি আবু বক্কর সিদ্দীককে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ঘটনার সাথে পুলিশও জড়িত রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে নারী শিশু আইনে মামলার পর আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, আসামিকে আদালতে পৌঁছানোর আগে মামলার তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়ার বিধান নেই।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

