চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়াদ আজ ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। শেষদিনে তিনি ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তবে তিনি কি দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন, নতুন কেউ কি দায়িত্বে আসছেন এ বিষয়গুলো এখনও পরিষ্কার হয়নি। এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে দায়িত্বে থাকা-না থাকার বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন মেয়র নিজেই।
মেয়রের দাবি, আদালতের নির্দেশনা মতে, তিনি ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। জনগণের একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে নির্বাচন চেয়েছেন তিনি। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মেয়র হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন—এমনটাও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে নগরীর হালিশহরের এইচ ব্লকে খেলার মাঠ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিক এ কথা বলেন মেয়র।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি যদি প্রার্থী হই, তফসিল ঘোষণা করলে আমি অবশ্যই আমি পদত্যাগ করবো। যদি দল আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করে। আল্টিমেটলি আমি থাকলে শহরটা চালাবে কে? শহরটাতো এতিম হয়ে যাবে। শূন্যতা তৈরি হবে।’
প্রশাসক দিতে পারবে না জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘প্রশাসককে বদলি করে আমি এসেছি। চট্টগ্রামে প্রশাসক ছিল। প্রশাসককে বদলি করে আমাকে মেয়র দেয়া হয়েছে। কাজেই মেয়রের পরে আর প্রশাসক দেয়ার সুযোগ নেই। আমি যদি চাই আদালতের নির্দেশনা মতে আমি ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করত পারব। কিন্তু জনগণের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই একটা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হোক। যে নির্বাচনের অপেক্ষা আমি দীর্ঘদিন ধরে করছি এবং আমি আমার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাচ্ছি।
মেয়র আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হওয়া উচিত। কেননা প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকতে যে পরিমাণ সার্ভিস জনগণ পাওয়ার কথা সে পরিমাণ সার্ভিস তারা পাচ্ছেন না, বঞ্চিত হচ্ছে। কাজেই আমি এজন্যই মনে করছিলাম চট্টগ্রামসহ সারা দেশে যে সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচন দরকার সেখানে অবশ্যই নির্বাচন দেয়া এবং নির্বাচত জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত। কাজেই এলজিআরডি মন্ত্রণালয়র নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত আমাকে মেয়র থাকতে হবে।’
এদিকে, মেয়রের দাবি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তাই মন্ত্রণালয় কিংবা নির্বাচন কমিশনের পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
সিটি করপোরেশনের আইন ২০০৯-এর ৩৪ নম্বর ধারা (২০১১ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববতী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। মেয়াদ শেষ হলেও স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯-এর ৩৪ নম্বর ধারা (২০১১ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী চসিকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া। এছাড়া একই আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন পর্ষদের প্রথম সভা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মেয়রের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ রয়েছে। তবে সেটি নিয়ে মন্ত্রণালয় বা নির্বাচনের কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘মেয়রের দায়িত্ব শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করতে হবে। এখন উনার মেয়াদ শেষ হয়েছে কি হয় নাই এটাও একটা আইনি ব্যাখ্যার দরকার আছে। মেয়র যেদিন প্রথম সভা করলেন সেদিন থেকে তার দায়িত্ব ধরা হবে নাকি আগের মেয়র যেদিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেদিন থেকে শুরু হবে। যদি ওইদিন থেকে হয় তাহলে উনার মেয়াদ এখনও রয়ে গেছে। এজন্য আইন ব্যাখ্যা মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে না হয় আদালতে পাঠাতে হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদধ) প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট। একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন রেজাউল করিম। পরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ডা. শাহাদাত ৯ জনকে বিবাদী করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মেয়রদের মতো রেজাউল করিম চৌধুরীকে অপসারণ করে। অপসারিত মেয়রের নেতৃত্বে গঠিত পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, ওই পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ।
এরপর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করেন আদালত। আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলে তিনি ওই বছরের ৩ নভেম্বর শপথ নেন এবং দায়িত্ব নেন ৫ নভেম্বর।
পতাকানিউজ/আরবি

