চট্টগ্রাম মহানগরীর জায়গা দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনসহ নানা অপরাধে আতঙ্কের নাম বার্মা সাইফুল। নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে বায়েজিদ, পাঁচলাইশ ও খুলশী থানা এলাকার মানুষকে অত্যাচার করাই যেন তার নেশা। এবার বর্মা সাইফুলসহ ১০ জনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে খুলশী থানায়। অভিযোগ, এক এস্কেভেটর অপারেটরের কাছ থেকে দাবি করা ৪ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে জোর করে এস্কেভেটর নিয়ে গেছে বার্মা সাইফুল। এক সপ্তাহ পরও এস্কেভেটর ফেরত দেয়া হয়নি মালিককে। এছাড়া মামলার পর এখনও গ্রেপ্তার হয়নি কোনো আসামি।
গত ২৩ নভেম্বর করা মামলার এজাহারে মো. হাছান (৩২) উল্লেখ করেন, তিনি দুমাস আগে টিপু কুমার নাথের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা দিয়ে একটি এস্কেভেটর কিনেন। কেনা যন্ত্রটি খুলশী থানার পলিটেকনিক্যাল এলাকার মোরশেদ আলমের মালিকানাধীন গ্যারেজে ছিল। বার্মা সাইফুলসহ তার সহযোগীরা হাছানের কাছে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি নগদ ৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা দিতে সময় চান। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর, বিকেল ৪টায় জঙ্গল সলিমপুর মসজিদের সামনে পুনরায় তার কাছে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে, না দিলে এস্কেভেটর নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়া হয়।
মামলার বাদী মো. হাছান জানান, ১৯ নভেম্বর রাত ১টায় গ্যারেজ মালিক মোরশেদ আলম ফোন করে জানান, বার্মা সাইফুলের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক গ্যারেজে ঢুকে তার এস্কেভেটরটি (চট্টমেট্রো-১১-৪৬২৭) একটি লোডারে তুলে নিয়ে গেছে। পরে হাছান বার্মা সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে চাঁদার টাকা ছাড়া গাড়ি ফেরত দেবে না বলে জানায়।
মামলায় আসামি করা হয়- বার্মা সাইফুল, মো. ফাহিম (২০), মো. শাহিন (২৬), মো. শামসু (৩৫), মো. সেকান্দর (৩৬), মাইকেল বাবু (৩০), মো. আরিফ (৩৩), শাহাদাত, মো. বাপ্পি (২৪) ও মনাকে (৩৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে।
মামলার বাদী হাছান বলেন, ‘এস্কেভেটর উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন। তবে এখনো আমি বুঝে পায়নি। কোনো আসামিও গ্রেপ্তার নেই। আজকের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এসআই। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টায় টেকনিকেল মোড় এলাকায় আমাকে ধরতে অস্ত্রসহ মহড়া দেয় বার্মা সাইফুল গ্রুপ।’
এদিকে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও তিনি পতাকানিউজকে দিয়েছেন। এতে দুজনের হাতে পিস্তল দেখা যায়। মোট ৯ জনকে সেখানে যেতে দেখা গেছে।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলশী থানার ওসি শাহীনুর রহমান পতাকানিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবো না। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।’
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, শীর্ষ সন্ত্রাসী বার্মা সাইফুল ২০২১ সালের ১৬ জুন রাত ২টায় বায়েজিদ লিংক রোড এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ওই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন। সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারি, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ৩৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
পাতাকানিউজ/আরএস/আরবি

