দক্ষিণ চীন সাগরে টহল চলাকালে অস্ট্রেলিয়ার একটি সামরিক বিমানের সামনে চীনা যুদ্ধবিমান বিপজ্জনকভাবে ফ্লেয়ার (আগুনের গোলা) নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
সোমবার (২০ অক্টোবর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রবিবারের ওই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার পি-৮এ টহল বিমানের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং এর কোনো সদস্য আহত হননি। তবে চীনা বিমানের আচরণকে ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার’ বলে অভিহিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। সরকার এ বিষয়ে বেইজিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছে।
চীনা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। চীনের সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড এয়ার ফোর্সের মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল লি জিয়ানজিয়ান বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ওই বিমানটি ‘অবৈধভাবে চীনের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছে’ এবং সেটিকে ‘প্রত্যাহার করতে বাধ্য’ হতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ চীনের সার্বভৌমত্বের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ এবং ক্যানবেরাকে ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার’ আহ্বান জানান।
অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, তারা প্রত্যাশা করে—চীনসহ সব দেশ নিজেদের সামরিক কার্যক্রম নিরাপদ ও পেশাদার উপায়ে পরিচালনা করবে।
এ ঘটনাটি দক্ষিণ চীন সাগরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক উত্তেজনারই সর্বশেষ উদাহরণ। বিশাল জলসীমা ও দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীনের দাবি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধপূর্ণ।
রবিবারের ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে ছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে আলোচনার অন্যতম বিষয় হবে ‘অকাস’ অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কয়েক শ’ কোটি ডলারের পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তি।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতেও দক্ষিণ চীন সাগরে অনুরূপ একটি ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া অভিযোগ করেছিল যে, চীনা যুদ্ধবিমান তাদের একটি টহল বিমানের কাছাকাছি ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে। তখন বেইজিং বলেছিল, অস্ট্রেলিয়ার বিমান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল’ এবং তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘আইনসম্মত ও সংযত’।
অস্ট্রেলিয়ার নিজস্বভাবে দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর কোনো সার্বভৌম দাবি নেই, তবে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে একমত যে, ওই জলসীমায় চীনের দাবির কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।
এ ছাড়া গত বছর মে মাসে অস্ট্রেলিয়া অভিযোগ করেছিল, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক মিশনে অংশ নেওয়া তাদের নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারের সামনে চীনা যুদ্ধবিমান ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করেছিল। পরের নভেম্বর মাসে ক্যানবেরা অভিযোগ তোলে, জাপানের উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেইজিংয়ের নৌবাহিনী সোনার পালস ব্যবহার করে, যার ফলে অস্ট্রেলীয় ডুবুরিরা আহত হন।
অস্ট্রেলিয়া বলছে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আগ্রাসী আচরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ক্রমেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
পতাকানিউজ/এনটি

