চেক প্রজাতন্ত্রের ডভুর ক্রালোভ সাফারি পার্কে সম্প্রতি জন্ম নিয়েছে বিরল বারবারি সিংহের চারটি শাবক-যাদের প্রজাতি বন্যে ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত। তিনটি মেয়ে ও একটি ছেলে শাবক বুধবার পার্কের খোলা খাঁচায় খেলতে দেখা যায়, মা খালিলা ও বাবা বার্টের তত্ত্বাবধানে।
বারবারি সিংহ একসময় উত্তর আফ্রিকার অ্যাটলাস পর্বতমালা জুড়ে বিচরণ করত। শক্তির প্রতীক এই প্রাণী মানব কর্মকাণ্ডে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়-রোমান যুগে গ্ল্যাডিয়েটরদের হাতে বহু সিংহ নিহত হয়, পরবর্তীতে অতিরিক্ত শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংস তাদের বিলুপ্তির কারণ হয়। বন্যে থাকা শেষ সিংহের ছবি তোলা হয় ১৯২৫ সালে এবং শেষ সিংহটি মারা যায় ১৯৪২ সালে।
ধারণা করা হয়, ১৯৬০ এর দশকের মাঝামাঝি বন্য থেকে তাদের শেষ অস্তিত্বও বিলুপ্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও সংরক্ষণাগারে ২০০-রও কম বারবারি সিংহ বেঁচে আছে।
সাফারি পার্কের উপ-পরিচালক জারোস্লাভ হাইজানেক জানান, ‘শাবকগুলো বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসরায়েলের বেয়ারশেবা চিড়িয়াখানাসহ অন্যান্য পার্কে পাঠানো হবে। মরক্কোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় প্রজাতিটিকে প্রাকৃতিক আবাসে ফেরানোর বিষয়টি নাকচ করা হয়নি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বা ২০২৬ সালের শুরুতে মরক্কোয় বিশেষজ্ঞ সম্মেলনে এই পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তবে হাইজানেক সতর্ক করে বলেন, ‘এতদিন অনুপস্থিত থাকা এই প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনতে সুরক্ষা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত শিকার প্রাণীর প্রাপ্যতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, ‘দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হলে এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই মূল্যবান, কারণ কোনো প্রজাতির জন্য এমন দৃষ্টি না থাকলে চিড়িয়াখানার অস্তিত্বেরই কোনো মানে হয় না।’
পতাকানিউজ/এসকে

