চেক প্রতারণার আরেক মামলায় মামলায় রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রবিবার, ২ আগস্ট ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তার দেখানোর এ আদেশ দেন।
সাহেদকে কারাগার থেকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। একইসঙ্গে সাহেদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তা না মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ৩ মে সাহেদের অনুপস্থিতিতে আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৬ জুলাই বাহার ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী হাফিজ উদ্দিন বাহার সাহেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য আসামির সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রথমে কিছু টাকা নগদ পরিশোধ করলেও পরে তিনি চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতেন। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাবদ আসামি ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর উত্তরা ব্যাংকের বংশাল থানার নবাবপুর শাখার একটি চেক দেন। ২০২০ সালের ৫ মে বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দিলে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ফেরত দেয়। একই বছরের ২ জুন বাদী আসামিকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় দিয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তবে ওই সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করেননি সাহেদ।
এর আগে, গত ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক প্রতারণার মামলার সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক আছেন।
গত ২০ জুলাই এনআরবি ব্যাংকের ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ খেলাপির দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় সাহেদকে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের জুলাই মাসে করোনা মহামারির সময় সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় র্যাবের অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। রোগীদের কোনো রকম করোনা পরীক্ষা না করেই হাজার হাজার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার এবং সরকার ও রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার অফিসে অভিযান চালায় র্যাব। পরে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা ছিল। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তার সাজাও হয়েছিল। সকল মামলায় জামিন লাভের পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এছাড়া ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে। ওই মামলায় ঢাকার এক নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনাল তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। যাবজ্জীবন দণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সাহেদ হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শুরুতে হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দিলেও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই রায় স্থগিত করে দেন।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

