সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের পাকা ফসল তলিয়ে গেছে। সোমবার, ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ জলমগ্ন হলেও এদিন রাতের টানা বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যায়।
এদিকে মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল সকালে ঘুম থেকে উঠে কৃষকেরা পানির নিচে কষ্টার্জিত ফসল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নলুয়ার হাওরের দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সারদা চরন দাস জানান, তিনি ১৬ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন মাত্র এক কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুদিনের বৃষ্টিতে সব ফসল তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকট থাকায় তিনি অনেক চেষ্টা করেও ফসল উত্তোলন করতে পারেননি।
কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি জানান, আমার সব শেষ হয়ে গেল একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। দারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কিভাবে চলব?
এ বিষয়ে সাবেক চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনধির দাস নান্টুর বলেন,‘নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল উত্তোলন করতে পারেননি কৃষকেরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকট ভুগতে হয়। গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। কমপক্ষে দেড়- দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
নলুয়ার হাওরের কৃষক এখলাছ মিয়া, মধু মিয়া, গৌরাঙ্গ দাস, হরিন্দ্র দাসসহ অনেক কৃষক ফসল তলিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে ফসল ডুবে গেছে। হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ এবার তাদের জন্য মরণফাঁদ হয়েছে।’
নলুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা সুমন দাস জানান, বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় নলুয়ার হাওরের শতশত কৃষক পরিবারে হতাশা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ কৃষক ফসল তুলতে পারছেন না। অকেজো স্লুইসগেট ও পানি নিস্কাশনের সুবিধা না থাকায় চোখের সামনে পাকা ফসল তলিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ পতাকানিউজকে বলেন, ‘নলুয়ার হাওরের ৬০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে অনেক কৃষক ধান তুলতে কষ্টে আছেন। এর মধ্যে টানাবৃষ্টি ফসলের কিছু ক্ষতি করছে। তবে এখনও ক্ষতি বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমিও হাওরে আছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় চেষ্টা করছি।’
পতাকানিউজ/এডি/আরবি

