জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার, ৩ আগস্ট ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ বি এম তারিকুল কবীর অভিযোগ গঠন করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের ( দুদক) পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো।
মতিউর রহমানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে আদালত তাকে অভিযোগ পড়ে শোনান। এরপর মতিউর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
গত ৫ জুলাই মতিউর রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেন তার আইনজীবী। ওইদিন অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানি করেন। পরে আদালত আদেশের জন্য তারিখ ধার্য করেন। আজ আসামি পক্ষের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ জুলাই মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে পৃথক নোটিশ পাঠায় দুদক। এসব নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৯ আগস্ট মতিউর, তার দুই স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়েসহ পাঁচজনের সম্পদ বিবরণী দুদকে জমা দেন। সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ায় গত বছর ৬ জানুয়ারি মামলা করে দুদক। আর ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান তার সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

এছাড়া সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
প্রসঙ্গত, কুরবানির জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনতে গিয়ে ২০২৪ সালে আলোচনায় আসেন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক যুবক। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।
২০২৪ সালের ৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে কার্যক্রম শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে মতিউর আর তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার হিসাব ও শেয়ারবাজারের বিও হিসাব ক্রোক করা হয়। মতিউর ও তার প্রথম স্ত্রী এবং সন্তানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

