কক্সবাজারে রামুর খুনিয়াপালংয়ে জমি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতির মাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় ওয়ার্ড শ্রমিক লীগ সভাপতির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হত্যায় জড়িত। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০ টায় রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদিঘী কেদারঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহেনা আক্তার (৫০) একই এলাকার মৃত রশিদ আহমদের স্ত্রী।
এদিকে খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
তিনি ঢাকা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের সভাপতি ইয়াছির আরাফাত ছোটনের মা। ছাত্রদল নেতা ছোটন জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ঢাকায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
নিহতের বড় ছেলে লুৎফর রহমান মিজান বলেন, ‘বসতভিটার সীমানা লাগোয়া কিছু জায়গার মালিকানা নিয়ে স্থানীয় ফরিদুল আলমের ছেলে ও ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি জহির উদ্দিন কাজলের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশী বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষের লোকজন কোন সিদ্ধান্ত মানেনি। বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার আমাদের ওপর হামলা ও মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। এ নিয়ে গত কিছুদিন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে অভিযোগ জানালেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত উভয়পক্ষকে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, ‘রবিবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধীয় জায়গায় সীমানা ঘেরা দিতে গেলে আমার মা বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে জহির উদ্দিন কাজলের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ৫/৬ জন আমার মায়ের ওপর হামলে পড়ে। এসময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটার আঘাতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় আমরা বাড়িতে ছিলাম। হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে মাকে মারধর করে ফেলে যাওয়ার পর স্বজনরা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালে মাকে মৃতু ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে খুনিয়াপালং ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু রায়হান মোহাম্মদ নসরুল্লাহ জানান, জমি বিরোধ নিয়ে তার কাছে অভিযোগ আসলে উভয়পক্ষকে সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইতিপূর্বে রেহেনা আক্তারের পরিবারের লোকজনের ওপর কয়েকবার হামলা-মামলার ঘটনা ঘটায়। আজ সকালে পূর্ব বিরোধের জেরে রেহেনা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জানতে চাইলে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
পতাকানিউজ/এনএ/আরবি

