পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ (২৬) খুনের ঘটনায় হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে থানা ফটকে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে আল্টিমেন্টাম দেয়া হয়।
শনিবার, ৪ এপ্রিল সকালে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে শুক্রবারও বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সোহাগ হত্যায় ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু নিজের ফেসবুকে লিখেন ‘একটি লাশের পরিবর্তে ১০ টি লাশ চাই’। তার এ পোস্টের পর এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খুনের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে দাবি করে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, নিহতের মাথায় ভারী অস্ত্রের আঘা রয়েছে। জড়িতদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তারে প্রশাসনের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুবই শীঘ্রই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ জানান, হত্যার রহস্য উন্মোচনসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া হুমকিমূলক পোস্টগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ছাত্রদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিটু বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন সোহাগের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে পারার প্রতিশ্রুতি দেয়ায় সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কথা রাখা না হলে আবারও বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ থানার প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় ঈশ্বরদী সাড়া গোপালপুর স্কুল মাঠ সংলগ্ন ধানখেতের পাশে গুলি করে ছাত্রদল নেতা সোহাগকে হত্যা করা হয়।
নিহত সোহাগ উপজেলার বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন। বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে সোহাগ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করেছেন।
এ নিয়ে প্রতিপক্ষ পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত ২৩ মার্চ দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
পতাকানিউজ/এসএমএইচ/আরবি

