ঝিনাইদহ জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকায় ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন এক বাবা। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবু জাফর তার ছেলে মো. নাহিদ হাসান সবুজকে (২৪) হলফনামার মাধ্যমে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন। ঝিনাইদহ জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. সাদাতুর রহমান হাদির মাধ্যমে এ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন আবু জাফর।
নাহিদ হাসান সবুজ ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
হলফনামায় আবু জাফর উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে অবাধ্য ও অবান্তর জীবনযাপন করে আসছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন না এবং নিজের খেয়ালখুশি মতো আলাদা থাকেন। গত ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সবুজ এ সংগঠনের কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছেন। বিশেষ করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তিনি বিব্রত হন।
হলফনামায় আরও বলা হয়, নাহিদ হাসান সবুজের কোনো আয়-রোজগার, দায়-দেনা বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পিতা বা পরিবারের অন্য সদস্যের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তার কোনো অপকর্মের দায়ভার পরিবার বহন করবে না। ভবিষ্যতে তার সঙ্গে পরিবারের সকল প্রকার রক্ত সম্পর্কীয় ও আইনি বিচ্ছেদ বজায় থাকবে।
এ বিষয়ে বাবা মো. আবু জাফর বলেন, ‘দেশের আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী কোনো কাজ আমার সন্তান করুক তা আমি চাই না। বারবার সতর্ক করার পরও সে শোধরায়নি, তাই বাধ্য হয়ে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
পতাকানিউজ/এআর/আরবি

