ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলার জন্য দেশের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং যথাযথ ব্যবহারের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এবার থেকে বিদ্যালয় ও কলেজের মাঠগুলো নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শেষে এবং ছুটির দিনগুলোতে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশে মন্ত্রণালয়ের পত্রের আলোকে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাউশির উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই আদেশে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানদের মাঠ সংরক্ষণ এবং উন্মুক্ত রাখার দায়িত্ব নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এর আগে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, শহর ও গ্রাম পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্ধারণ এবং তা কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে গঠিত ‘আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি’-র প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
আদেশে বলা হয়েছে, বিদ্যালয় ও কলেজের নিয়মিত কার্যক্রম শেষে মাঠগুলো শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, আশেপাশের এলাকায় বসবাসরত সাধারণ ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও জনবহুল এলাকায় মাঠের ঘাটতি রয়েছে, যা স্থানীয় শিশু ও কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল শারীরিক কার্যক্রমের স্থান নয়, বরং সামাজিক বিকাশ, দলগত কাজ, নেতৃত্বগুণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বড় শহর ও শহরতলী এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন এলাকায় শিশুদের নিরাপদ খেলার সুযোগ সীমিত। এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ শিশুদেরও খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
মাউশি অধিদপ্তর থেকে জারি করা আদেশ দেশের সকল অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের মাঠ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
খুশি ক্রীড়াপ্রেমিরা
ক্রীড়াবিদরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি পরামর্শ দিয়েছেন, দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক রয়েছেন। স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্রীড়া শিক্ষক খেলাধুলা কার্যক্রম চালাতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং মোবাইল আসক্তি কমবে।
ক্রীড়াপ্রেমিরা মনে করেন, মাঠের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মাধ্যমে খেলার মান নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপদ খেলার সরঞ্জাম এবং মাঠ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিকভাবে পালন করা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিশু ও কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে, শিক্ষার্থীরা আরও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকবে, এবং শহর-গ্রামের জনসমাজে স্বাস্থ্যকর বিনোদনের পরিবেশ তৈরি হবে।
এ ছাড়া দেশের কিছু শহরে স্কুল ও কলেজ মাঠ কম থাকায় স্থানীয় কমিউনিটি কেন্দ্রের মাঠও উন্মুক্ত করার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণ করে প্রতিটি উপজেলায় শিশুদের নিরাপদ ও পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
-পতাকানিউজ

