একবার দুইবার নয়, টানা চতুর্থবারের মতো শিরোপা জয়ী হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ। এই যেন ‘বাঘাজয়’। বাঘা শরীফের এই কৃতৃত্ব দেখা গেছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলায়। ১১৭ তম আসরে বলী খেলতে নেমে তিনি হারিয়েছেন রাশেদ বলীকে।
টানা চতুর্থবার শিরোপা জয়ের আনন্দে আত্মহারা বাঘা শরীফ যেন এখন সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করছেন। আজ শনিবার, ২৫ এপ্রিল বিকেলে লালদীঘি ময়দানে দীর্ঘ সময় লড়াই করে জয় নিশ্চিত করেন বাঘা শরীফ।
ফাইনালের শুরু থেকেই দুই বলী নিজদের সেরাটা দিয়ে লড়তে শুরু করেন। একজন আরেকজনকে পরাজিত করতে তুমুল প্রচেষ্টা চালান। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইনের মধ্যেই দুজন ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড খেলায় জয় নিশ্চিত করেন বাঘা শরীফ। এই সময় তিনি পরাজিত করেন প্রতিদ্বন্ধি রাশেদ বলীকে।
ফাইনালে দীর্ঘ সময় লড়াকু থাকা রাশেদ প্রথম সেমিফাইনালে খেলেন মিঠু বলীর সঙ্গে। মিঠুকে হারিয়ে রাশেদ ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করেন।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হন শাহ জালাল বলী ও বাঘা শরীফ। তারা দীর্ঘ সময় লড়াই করেন। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে বাঘা শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সমঝোতায় ফাইনালে গিয়ে বাঘা শরীফ চূড়ান্ত খেলা শুরু করেন রাশেদের সঙ্গে। সেখানেই রাশেদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শরীফ।
দুই সেমিফাইনালে পরাজিতরা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেমে পুনরায় খেলা শুরু করেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জয়ী হন মিঠু।
রাশেদ বলী কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের নসরাইল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে বাঘা শরীফ কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

খেলা শেষে বিজয়ীদের পুরষ্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানসহ অন্য অতিথিরা।
এবার ১০৮ জনের বলী অংশগ্রহণ করেন। এই আসরের টাইটেল স্পন্সর বাংলালিংক।
এই বলী খেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি মাঠসহ আশপাশের এলাকায় লোকারণ্য হয়ে উঠে। এর সঙ্গে মেলার দর্শকদের সমাগমও হয়েছে বেশি। মেলায় সারাদেশ থেকে প্রচুর বিক্রেতা নানা ধরনের পণ্য নিয়ে এসেছেন। ফলে লালদীঘি মাঠ এলাকা এখন বেশ সরগরম।
-পতাকানিউজ

