চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে চতুর্থবারের মত সংসদ সদস্য হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। ঘোষিত ফলাফলে সরওয়ার জামাল নিজাম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৬০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বৃহত্তর সুন্নী জোটের এস এম শাহজাহান (মোমবাতি) পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬২ ভোট এবং ১১ দলীয় জোটের মাহমুদুল হাসান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৫ ভোট। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থেকে ৭৪ হাজার ৩৯৮ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
এছাড়া জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী (লাঙ্গল) ৪২৮, এনডিএমের মোহাম্মদ এমরান (সিংহ) ২১৯, গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান (ট্রাক) ১৫৯ এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল) ২৮৩ ভোট পেয়েছেন।
জয়ের পর সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘আওয়ামী গোষ্ঠী আমার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। ওয়ান এলিভেনের সময় আমাকে টার্গেট করে জেলে নেয়া হয়েছিল, তারা আমাকে দেশে থাকতে দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১৩ আসনে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না, সন্ত্রাসী করতে দেয়া হবে না, নির্যাতন করতে দেয়া হবে না। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি সুন্দর আনোয়ারা উপহার দেয়া হবে।’
এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচনে ১৭ বছর পর এসে মানুষের যে আস্থা, প্রেম ও ভালোবাসা পেয়েছি বিগত দিনে পায়নি। বিশেষ করে আমাদের সনাতনীদেরকে বলত তারা শুধু একটা প্রতীককে ভোট দেয়। সেটা এবার ভুল প্রমাণ করে আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে যেভাবে তারা সমর্থন দিয়েছে আমি সেটা ভুলতে পারব না। এজন্য আমি আনোয়ারা-কর্ণফুলীবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি কথা দিচ্ছি আনোয়ারা-কর্ণফুলীকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও সম্মৃদ্ধ করা হবে।’
সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘আমি গত ৪৩ বছর রাজনীতি করছি। এর আগে আমি চারবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি এলাকাবাসীর ভোটে। কিন্তু দুর্নীতিকে আমি কখনও প্রশ্রয় দিইনি। পরিবার থেকে শুরু করে সবার জানে, আমার দুর্নীতি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খোঁজা হয়েছিল। ইনশাল্লাহ পায়নি কখনও। কারণ আমরা দুর্নীতিতে নাই। আমার পরিবার দুর্নতি মুক্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমার সাথে যারা রাজনীতি করছিল এদেশের বিগেস্ট ফ্যাসিস্ট। সে তো এখন বিদেশে ফ্যামিলি নিয়ে ১৪ হাজার ১৫ হাজার কিনে বিদেশে করছে। তারা কীভাবে আমাকে এবং আমাকে ছেলে এদেশ থেকে বিতাড়িত করার জন্য ওয়ান ইলাভেন থেকে শুরু করে আমরা ঘরছাড়া-বাড়িছাড়া। আমার ৪ বছরের ছেলেকে নিয়ে স্ত্রীকে পালাতে হয়েছে আমি যখন জেলে ছিলাম। কিন্তু তারা বদনাম করছে আমি দেশে ছিলাম না। আমাকে দেশে থাকতে দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যেভাবে বিতাড়িত করেছে আমাকেও সেভাবে বিতাড়িত করে তারা একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এবং সেটাই করেছে পরে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে লক্ষ কোটি টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে। ইনশাল্লাহ আমার এবং আমার পরিবারের যে ক্লিন একটা ইমেজ আছে এটাকে তারা নষ্ট করতে চেয়েছিল। ইনশাল্লাহ পারে নাই, পারবে না। আগামীতেও আমি বলে দিয়েছি বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারের সময় আমাদের সরকার যদি আসে এবং আমার তারেক রহমান সাহেবের উক্তি হলো এখানে কেউ সন্ত্রাস, নির্যাতন, চাঁদাবাজি করতে পারবে না। বিএনপির গায়ে কালিমা লেপন করতে চাইলে সেটাকে আমরা প্রতিহত করবো।’
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬টি। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ২৩৩টি। এর মধ্যে বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ১০হাজার ৬৮৭ টি। বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ১১হাজার ৫৪৬টি।
পতাকানিউজ

