বগুড়ায় বেকারি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামকে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী শামিমা আক্তার (৩২) ও তার খালাতো ভাই বিপুল মিয়া (৩৭) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্ত্রী ও খালাতো ভাইয়ের দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের বলি হতে হয়েছে ওই ব্যবসায়ীকে।
বুধবার, ৫ নভেম্বর ভোরে বগুড়া সদর উপজেলার হাজরাদীঘি গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনেই হত্যার দায় স্বীকার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামিমা আক্তার এবং তার পরকীয়া প্রেমিক খালাতো ভাই বিপুল। পরকীয়ায় বাধা হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে জহুরুলকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, শৈশব থেকেই শামিমা আক্তার ও তার ফুফাতো ভাই বিপুলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু শামিমার বিয়ে হয় জহুরুলের। বিপুল এবং জহুরুল একে অপরের খালাতো ভাই। কিন্তু বিয়ের পরেও শামিমা আর বিপুলের পরকীয়ার সম্পর্ক চলমান ছিল। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে জহুরুলের সঙ্গে শামীমার বিরোধ তৈরি হয়। এই সম্পর্ককে চিরতরে সরিয়ে দিতেই শামিমা ও বিপুল জহরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী সোমবার, ৩ নভেম্বর রাতে স্ত্রী শামিমা আক্তার দুধের সঙ্গে প্রায় ১৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন স্বামী জহুরুলকে। ওষুধ খেয়ে জহুরুল অচেতন হয়ে পড়লে শামিমা ফোন করেন প্রেমিক বিপুলকে। এরপর ঘুমন্ত জহুরুলকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির পাশের একটি অর্ধনির্মিত বাড়িতে। সেখানে দেয়ালের সঙ্গে সজোরে আঘাত করে তার মাথায় গুরুতর জখম করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভাঙা টয়লেটের টাইলস দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে রাখা হয় পাশের ধানক্ষেতে।
হত্যার পর শামিমা আক্তার নিজের অপরাধ ঢাকতে নাটকীয়তার আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর সকালে স্বামীর লাশ উদ্ধারের পর তিনি নিজেই সাংবাদিকদের কাছে স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। তবে এই হত্যার ঘটনায় শামিমা আক্তারের বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করার পর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশ নিশ্চিত হয়, নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামিমাই এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, ‘তদন্তের পরই আমরা জানতে পারি পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার সব তথ্য পাওয়া গেছে।’
নিহত জহুরুলের ১০ বছরের এক ছেলে ও ৬ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শামিমা আক্তার ও বিপুলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে মামলার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখছে। ঘটনায় নিহত জহুরুলের মামা ও ঘাতক শামিমার বাবা শাহীনুর রহমান বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পতাকানিউজ/পিএম/এমওয়াই

