জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে বিএনপি সরকার আওয়ামী ‘ফ্যাসিবাদের’ পথ অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপিকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, হাজার চেষ্টা করেও তারা আওয়ামী লীগ হতে পারবে না, বরং দুর্বল আওয়ামী লীগে পরিণত হবে।
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের’ দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে যেভাবে বিরোধীদের অবজ্ঞা করেছে এবং লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করেছে, বর্তমানে বিএনপিও একই পথে হাঁটছে। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের যেসব প্রস্তাব এসেছে, তার প্রায় সবকটির বিরোধিতা করছে বিএনপি, যা জাতির সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ অনেক রাজনৈতিক শক্তি সামনে আসতে পেরেছে। কিন্তু শহীদ পরিবার যখন কষ্টে ছিল, তখন তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে বিএনপি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেশের ছাত্র-জনতা সম্মিলিতভাবে রাস্তায় নেমেছিল এবং সবাই একেকজন ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং সেই জবাবদিহিতা ভবিষ্যতেও থাকবে।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা। এছাড়া শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাইযোদ্ধারাও সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ এক শিশুর মা রোকেয়া বেগমসহ কয়েকজন শহীদ পরিবারের সদস্য। দুই হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকরা জানান।
শফিকুর রহমান সমাবেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নেত্রকোনার পূর্বধলায় এক জামায়াত নেতার ওপর হামলা এবং শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতাদের মারধরের ঘটনা প্রমাণ করে দেশ এখনো একটি অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল না।
তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিরোধিতা করে বিএনপি গণআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা অতীতের শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তির দিকে এগোচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার দাবি জানানো হয়।
-পতাকানিউজ

