আজ জাতি স্মরণ করছে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে—বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি, সংগীত ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিভা। ১৯৭৬ সালের এই দিনে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শায়িত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। শৈশবে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘দুখু মিয়া’ নামে। তার পিতা কাজী ফকির আহমেদ এবং মাতা জাহেদা খাতুন।
কেবল কবি নন, তিনি ছিলেন গায়ক, অভিনেতা, সাংবাদিক ও সুরকারও। সাহিত্যকর্মের বিস্তৃত ভুবনে কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রেও রেখেছেন অমোচনীয় স্বাক্ষর। অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টির মাধ্যমে নজরুল বাংলা সংগীতে এনে দিয়েছেন নতুন প্রাণ।
বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য আর জাগরণের কবি নজরুল শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার লেখা ও গান হয়ে উঠেছিল বাঙালির প্রেরণার অন্যতম উৎস। সাহিত্য ও সংগীতে নবজাগরণের সূচনা করে তিনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবি ও তার পরিবারকে ঢাকায় আনা হয় এবং তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। পরে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনে তিনি সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি পান। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। বাংলা একাডেমি আয়োজন করেছে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান কক্ষে ‘নজরুলের মৌলচেতনা অদ্বৈতবাদী সমন্বয়ের’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন ড. সৈয়দা মোতাহেরা বানু ও কবি-প্রাবন্ধিক কাজী নাসির মামুন। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। স্বাগত ভাষণ দেবেন সচিব ড. মো. সেলিম রেজা।
সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করবেন টিটো মুন্সী। নজরুলগীতি গাইবেন ফেরদৌস আরা, শহীদ কবির পলাশ ও তানভীর আলম সজীব।
এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আয়োজন করেছে আলোচনা, আবৃত্তি ও সঙ্গীতানুষ্ঠান। জাতীয় কবির মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন ও দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হবে নজরুলকে।
পতাকানিউজ/এনটি

