ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই সমাহিত করা হবে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে। পরিবারের দাবির ভিত্তিতে তাকে সেখানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সংগঠনের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদিকে বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দর থেকে হিমঘরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। সেখানে শহীদ ওসমান হাদিকে রেখে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগে এসে অবস্থান নেবেন।
এতে বলা হয়, পরিবারের দাবির ভিত্তিতে শহীদ ওসমান হাদীকে বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি নজরুলের পাশে সমাহিত করা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাদ জোহর জানাজার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আজকের (শুক্রবার) পরিবর্তে আগামীকাল (শনিবার) মিছিলসহ হাদীর মরদেহ ঢাকা ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল মসজিদে আনা হবে।
ছাত্রজনতা আজ ও আগামীকাল শৃঙ্খলার সাথে আন্দোলন জারি রাখবেন যেন কোনো গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে আন্দোলন স্তিমিত করতে না পারে, একই সাথে সহিংসতা করার সুযোগ ও না পায়।
মরদেহ দেখার কোনো সুযোগ থাকবে না। সবার কাছে শৃঙ্খলা বজায় রাখার এবং শহীদ ওসমান হাদীর জন্য দোয়া পৌঁছানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।
এর আগে, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় হাদীর মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৩৮৫ ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
আজ, শুক্রবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে হাদীর মরদেহ। শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, দুুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে একটি মোটরসাইকেলে এসে দুজন দুর্বৃত্ত হাদীকে গুলি ছোড়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত ৮টায় হাদীকে ঢামেক হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে হাদীকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
পতাকানিউজ/আরবি

