বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার, ৫ জানুয়ারি রাতে শিবগঞ্জবাসীর উদ্দেশে দেয়া এক খোলা চিঠিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।
লাঙ্গল প্রতীকের এ প্রার্থী অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নির্বাচনী এলাকায় একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশ নেই। তার ও সমর্থক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক ‘মিথ্যা’ মামলা দেয়া হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীকে এলাকাছাড়া করা হয়েছে এবং সাধারণ ভোটারদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হচ্ছে। এর ফলে শিবগঞ্জে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চিঠিতে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ উল্লেখ করেন, রাজনীতি হওয়া উচিত উন্নয়নের প্রতিযোগিতা, প্রতিহিংসার নয়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচন মানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা নয়, বরং ভয় ও জবরদস্তির বৈধতা দেয়া। শিবগঞ্জবাসীর সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের প্রশ্নে আপস করতে না পেরেই আমি নির্বাচন বর্জনের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।
চিঠির শেষে সাধারণ ভোটারদের প্রতি শান্তি ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বর্জন মানে পিছু হটা নয়; এটি ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর একটি প্রতিবাদ।’
চিঠিতে তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিনি শিবগঞ্জের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে ন্যায় ও ন্যায্যতার পক্ষে এ বর্জন তার একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ।’
‘আজ আমি আপনাদের কাছে একটাই আহ্বান জানাই শান্তি, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে থাকুন। অন্যায়, অবিচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন। ভয় নয়, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ চিঠির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার নিজের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। তারা ঘর ছাড়া। আমার লোকজনদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে বাধ্য হয়ে ভোট বর্জন করলাম।’
প্রসঙ্গত, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নাকে পরাজিত করে এক লাখ ৮৪ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন।
এছাড়াও তিনি ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

