জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলা নববর্ষের উৎসবকে ধারণ করে এবং মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস ও সংস্কৃতির চর্চায় জামায়াত কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চায় না।
আজ মঙ্গলবার দলটির পক্ষ থেকে বৈশাখ উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা বের করার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী অতীতে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে এমন নজির কম। ক্ষেত্র বিশেষে এর বিরোধিতা করতো। এবার বিরোধী দলে অবস্থান নেওয়ার পর দলটি বাঙালী সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেন, মানুষের মঙ্গল–অমঙ্গলের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এরপরও সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি জামায়াতের কোনো আপত্তি নেই। তাঁর ভাষায়, ‘দেশের কোনো জনগোষ্ঠী যদি মনে করে তাদের কল্যাণ বা ভাগ্য অন্য কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত, সেই বিশ্বাসে আমরা বাধা দিতে চাই না।’
বাংলা সনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, মুঘল সম্রাট আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সন চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়।
ইসলাম ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তৌহিদ ও রিসালাতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়-এমন সব স্থানীয় সংস্কৃতিকে ইসলাম ধারণ করে। স্থানীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করাই ইসলামের সৌন্দর্যের একটি বড় দিক।’ তিনি যোগ করেন, ‘ভবিষ্যতেও দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ধারণ, পালন ও লালন করা হবে, তবে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া হবে না।’
ঢাকার ঐতিহ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানী এখনো ‘মসজিদের শহর’ হিসেবেই পরিচিত। গ্রামীণ জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙা বা কৃষকের মাঠের পাশে নামাজ পড়ার দৃশ্য দেশের ঐতিহ্যের অংশ।
সকাল পৌনে নয়টার দিকে ‘নববর্ষের নব স্বপ্নে নব উদ্যমে জাগো’ প্রতিপাদ্যে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি সাইফুল্লাহ মানসুরসহ সংগঠনের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই সাদা, লাল ও কমলা রঙের পাঞ্জাবি পরে উৎসবের আবহ তৈরি করেন।
শোভাযাত্রায় দেশীয় ফল, মাছ, পালকি ও মসজিদের প্রতীকী চিত্র প্রদর্শন করা হয়। একাংশে জাল ও চাঁই দিয়ে প্রতীকী মাছ ধরার অভিনয়ও দেখা যায়। শোভাযাত্রার সামনের সারিতে ছিল শিশুরা; তাদের হাতে জাতীয় পতাকা, গায়ে রঙিন পোশাক। অনেকেই কৃষকের সাজে মাথাল পরে অংশ নেয়। ঘুড়ি, কুলো, চাঁই ও খালই হাতে নিয়ে ঐতিহ্যের নানা উপকরণ তুলে ধরা হয়।
শোভাযাত্রাটি হাইকোর্ট মোড় ঘুরে রমনা পার্ক-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকাল ১০টা থেকে রমনার বকুলতলায় শুরু হয় বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে চিরায়ত বাংলা গান, দেশাত্মবোধক সংগীত, জারি-সারি, গম্ভীরা, আবৃত্তি, পুঁথিপাঠ ও নাটিকা পরিবেশিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলবে এ উৎসব।
-পতাকানিউজ

