রাতের অটোরিকশাযোগে অন্তত ১৫ জন সন্ত্রাসী আসে জামায়াত কর্মী শাহাদাতের দোকানের সামনে। এই সময় নিজের চা দোকানেই বসে ছিলেন মোহাম্মদ শাহাদাত। মুহূর্তেই শাহাদাতের মাথায় হাড়ুতি দিয়ে আঘাত শুরু করে।
আশপাশের লোকজন চিৎকার করে শাহাদাতকে রক্ষায় এগিয়ে আসে। তখনই পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। আর শাহাদাতকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোহাম্মদ শাহাদাত।
-এমন নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার রাস্তার মাথা এলাকায়। নিহত শাহাদাতের বাড়ি তার দোকার থেকে অদূরে ঢেমশা গ্রামের মাইজপাড়া এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত শফি আহমদ।
শাহাদাতের খালাতো ভাই মাস্টার আবু তাহের পতাকানিউজকে জানান, ‘রোববার দিবাগত রাতে হামলায় গুরুতর আহত শাহাদাত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এখন আমরা মর্গের সামনে অপেক্ষা করছি। মরদেহ বুঝে পেলে গ্রামের বাড়িতে চলে যাবো। সেখানে জানাযার পর দাফন হবে।’
মো. শাহাদাত (৩৩) বিবাহিত। তিনি চার সন্তানের জনক। রাস্তার মাথায় এলাকায় চা দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অবশ্য, তার বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন পতাকানিউজকে বলেন, ‘একটি চা দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন শাহাদাত। গত রাতে দোকানে বসা অবস্থায় একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। এইসময় তানভীর হোসেন তুর্কি, পিচ্ছি কামাল এবং মেট্রো সহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা হামলা চালায়। হাড়ুতি দিয়ে সরাসরি মাথায় আঘাত করে মেট্রো নামের ওই সন্ত্রাসী। এছাড়া পিচ্ছি কামাল দীর্ঘ দিন কারাগারে ছিল। মাত্র তিনদিন আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আমার ভাইকে হত্যা করল। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমার মা সায়েরা খাতুন বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করবেন। আমরা আগে মরদেহ দাফন করি। তারপর থানায় যাবো।’
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি অপরাধীচক্রের সঙ্গে বিরোধ চলছিল শাহাদাতের। নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলেন, কয়েক মাস আগে লোহাগাড়া উপজেলার এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। ওই ঘটনায় তথ্য দেওয়ার সন্দেহে তার ভাইকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা এলাকায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে নিজ চায়ের দোকানে ছিলেন শাহাদাত। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মুখোশধারী ১৫ জনের একটি দল সেখানে আসে। নেমেই তারা হঠাৎ করে তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম নগরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির কামাল উদ্দিন বলেন, শাহাদাত দলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সাতকানিয়ায় মাদক কারবারিরা বেশ সক্রিয়। এছাড়া রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরাও এখন নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাতকানিয়ায় একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হত্যার মধ্য দিয়ে আবারও রাজনৈতিক হত্যার ঘটনা ঘটলো। যদিও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইয়াবা পাচারকারীরা জড়িত থাকতে বলে বলে প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে।
-পতাকানিউজ

