রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় নিজ বাসার ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে হত্যা করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, চুরির উদ্দেশ্যেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
নিহত ব্যক্তি আনোয়ার উল্লাহ (৬৫)। তিনি জামায়াতের পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন হোমিও চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি রাজাবাজারের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। পরে আনোয়ার উল্লাহকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, চুরির সময় বাধা পাওয়ায় আনোয়ার উল্লাহকে হত্যা করা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাসার ভেতর আনোয়ার উল্লাহ ও তাঁর স্ত্রীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আনোয়ার উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাত আনুমানিক ২টা ১০ থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে দুই ব্যক্তি গ্রিল কেটে ফ্ল্যাটে ঢোকে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা একই পথে বেরিয়ে যায়।
নিহতের পরিবারের দাবি, বাসা থেকে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় ৫ লাখ টাকা লুট হয়ে গেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখা। সংগঠনের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিম এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিবৃতিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে আনোয়ার উল্লাহর মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়।
-পতাকানিউজ।

