বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার চানখারপুলে জুট ব্যবসায়ী মো. মনির নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ নির্দেশ দেন।
৪ দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হাজী সেলিমকে আদালতে হাজির করে শাহবাগ থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাইনুল হাসান খান পুলক তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর এ মামলায় হাজী সেলিমকে চারদিনের রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। দীর্ঘদিন পর গত ২৮ নভেম্বর কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আদালতের আদেশে রিমান্ড পেয়ে হাজী সেলিমকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামি বাক প্রতিবন্ধী। তিনি জিজ্ঞাসাবাদকালে ইশারায়, আকার ইঙ্গিতে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন—যা মামলার তদন্তে সহায়ক হবে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পলাতক হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে তাকে পুনরায় রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে। এমতাবস্থায় বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হাজী সেলিমকে কারাগারে আটক রাখার প্রয়োজন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট শাহবাগ থানার চানখারপুল এলাকায় ছাত্রজনতার সঙ্গে সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নেন ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির। দুপুরে গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার গত ১৪ মার্চ শাহবাগ হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারভুক্ত ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। হাজী সেলিম যাহার নামেও ১২ নম্বর আসামি।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হাজী সেলিমকে পুরানো ঢাকার বংশাল এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

