বাংলাদেশ আবারও বিশ্বমঞ্চে গর্বের এক নতুন মুহূর্ত যোগ করল। রাশিয়ার সোচিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে জাতীয় দলের ছয় সদস্যই ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছে। সমাপনী অনুষ্ঠানের ঠিক আগ মুহূর্তে ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যা এবারের প্রতিযোগিতার এক রোমাঞ্চকর সমাপ্তি টেনে দেয়।
১৫ বছর বা তার কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত আইেজএসও বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর পঞ্চাশেরও বেশি দেশের হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফলে প্রতিটি সাফল্যই হয়ে ওঠে বিশেষ অর্জন।
ছোটদের বিজ্ঞানবিষয়ক এই বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দল। দলে ছিলো, বাংলাদেশ সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার জাহিন পাঠান, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিহান পাল, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের আহনাফ আহমেদ সিনান, গলগথা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এইচ এম আজিজুর রহমান আলিফ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাশওয়ান হক মাহির এবং যশোর পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুফফা নূর জারিয়াহ।

এ বছরের বাংলাদেশ দল পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে অসাধারণ দক্ষতা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে। পরীক্ষাগুলোতে তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা। দলের সঙ্গে থাকা কোচ ও মেন্টররা শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেছেন—চাপের মুখে তাদের স্থিরতা এবং দীর্ঘ মাসজুড়ে কঠোর প্রস্তুতির প্রতি তাদের নিবেদন সত্যিই প্রশংসনীয়।
এই দলের প্রধান দলনেতা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, সহকারী দলনেতা বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের কো-অর্ডিনেটর মো. রেজাউল ইসলাম ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর মোর্শেদা আক্তার মীম। পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন মুহম্মাদ জাকারিয়া পাঠান।
এর আগে বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই ছয় শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়েছে। চলতি বছর জুলাই মাস থেকে শুরু হয় বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের ১১তম আসর। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় অনলাইন বাছাই পর্ব। ৬টি আঞ্চলিক পর্ব, একটি ই-অলিম্পিয়াড, ১০টি উপজেলা পর্যায়ে স্কুল অলিম্পিয়াড শেষে ঢাকায় আয়োজিত হয় জাতীয় পর্ব ও ক্যাম্প। সেখান থেকে এই ছয় সদস্যের দল বাছাই করা হয়েছিল।
পতাকানিউজ/কেএস

