জুলাই ঘোষণাপত্রকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণামূলক ও প্রহসনের দলিল আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ৬০ জন ছাত্রনেতা।
রোববার, ১০ আগস্ট রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা নতুন ঘোষণাপত্র প্রণয়ন ও গণবান্ধব সংবিধান তৈরির দাবি জানান।
ছাত্রনেতারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও শেখ হাসিনার স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করেছিল। ওই আন্দোলন কেবল শাসক পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরোনো শোষণ–নিপীড়নমূলক পুলিশ, আদালত, আইন ও সংবিধানকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল।
তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় পুরোনো সামরিক–বেসামরিক আমলাতন্ত্র, লুটেরা গোষ্ঠী ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদেরা কৌশলে প্রভাব বিস্তার করে। তাদের ছলনা ও সুশীল নেতৃত্বের আপোষকামিতার কারণে বিদ্যমান কাঠামোই বহাল থাকে। এতে গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হয় এবং জনগণের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আসে না।
ছাত্রনেতারা দাবি করেন, জনআকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করার মতো জুলাই ঘোষণাপত্র বানচাল করে পুরোনো গোষ্ঠী ‘ভাসাভাসা স্বীকৃতি ও প্রতিশ্রুতির’ একটি দলিল তৈরি করেছে, যা জনগণের রাষ্ট্রগঠনের স্বপ্নকে ক্ষুণ্ন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। সত্যিকার গণবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়তে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
বিবৃতি স্বাক্ষরকারী ছাত্রনেতারা হলেন—
১. আরিফ সোহেল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
২. আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩. মো: ওয়াহিদ উজ জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪. হামজা মাহবুব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৫. মো: সাইফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৬. নাহিদা বুশরা, স্বাস্থ্য অর্থনীতি কলেজ
৭. মো: রাসেল মাহমুদ, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
৮. মো: রাকিব, ঢাকা কলেজ
৯. আসাদ বিন রনি, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
১০. সানজানা আফিফা অদিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১১. ইব্রাহীম নিরব, শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)
১২. মো: সুজন মিয়া (নিরব হাসান সুজন), সরকারি তিতুমীর কলেজ
১৩. আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ খন্দকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৪. মো: আসিফ ইমতিয়াজ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৫. সাকিব হোসাইন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
১৬. মো: মেহেদী হাসান, কবি নজরুল সরকারি কলেজ
১৭. লিটন আকন্দ, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৮. রিয়াদ হাসান, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৯. সিনথিয়া জাহিন আয়েশা, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ
২০. মেহেদী হাসান বাবু খান, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
২১. মেহেরাজ হাসান শিশির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২২. মোঃ আরমানুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২৩. স্বর্ণা রিয়া, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
২৪. এস আই শাহিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২৫. মিশু আলী সুহাস, স্টেট ইউনিভার্সিটি
২৬. মো: সোহাগ মিয়া (প্রীতম সোহাগ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২৭. তানজিনা তাম্মিম হাপসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ২৮. রোকন উদ্দিন রানা (ছদ্মনাম কাউসার মিয়া), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২৯. তাহসীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩০. এস এম সুইট, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
৩১. তৌহিদ আহমেদ আশিক, শের-এ-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
৩২. সাব্বির উদ্দিন রিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩৩. কুররাতুল আইন কানিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩৪. আরমান হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩৫. মুমতাহহীনা মাহজাবীন মোহনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩৬. আকরাম হোসাইন রাজ (ছদ্মনাম আদনান আবির), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩৭. সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি, বিএল কলেজ (খুলনা)
৩৮. সালমান সাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩৯. রিফাত রিদওয়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪০. জহুরুল তানভীর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
৪১. তারেক রেজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪২. তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪৩. নুরুল ইসলাম নাহিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪৪. রাইয়ান ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪৫. তসলিম ইসলাম অভি, হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)
৪৬. দিলরুবা আক্তার পলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪৭. খালেদ হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪৮. মো. মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪৯. মো. মোক্তার হোসেন, ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)
৫০. মিনহাজ ফাহিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৫১. আনিকা তাহসিনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৫২. রেজওয়ান আহম্মেদ রিফাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৫৩. সামিয়া আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৫৪. আজিজুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৫৫. মো. আরিফ হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৫৬. আহমেদ আল সাবাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়৫৭. মোঃ রাসেল আহমেদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
৫৮. কে এম জাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৫৯. নাজিফা জান্নাত, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি
৬০. শিবলী সাদি (ছদ্মনাম তানিম আহমেদ), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পতাকা নিউজ/এআই

