বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় হানিফ রহমান সাফি নামে এক জুলাই যোদ্ধাকে না পেয়ে তার মা হোসনে আরা বেগমকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
শনিবার, ৭ মার্চ বিকেলে উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনপুর এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা কামরুল, হানিফ রহমান সাফি, আজমল হোসেন বাবু ও সোমা আক্তার।
বক্তারা বলেন, ‘একজন জুলাই যোদ্ধাকে না পেয়ে তার মায়ের ওপর হামলা চালানো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘গাবতলী উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ মেম্বারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।’
এদিকে উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছার রহমান (৫৮) গত ৪ মার্চ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলমসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মোখলেছার রহমানের ছেলে হানিফ রহমান সাফিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গত ৩ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টায় হোসেনপুর স্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে হামলা চালানো হয়। এসময় স্থানীয়দের সহায়তায় সাফি প্রাণে রক্ষা পেলেও তার বাম পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর জখম হয় এবং সেখানে তিনটি সেলাই দিতে হয়। হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেল নিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
আরও বলা হয়, পরদিন ৪ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় অভিযুক্তরা দেশি অস্ত্রসহ দলবদ্ধভাবে সাফিদের বাড়ির পূর্বপাশের রাস্তায় অবস্থান নেয়। এসময় সাফিকে না পেয়ে তার মা হোসনে আরা বেগম (৪০) বাড়ি থেকে বের হলে তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আহত হোসনে আরা বেগমকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে গাবতলী মডেল থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

