রাজনৈতিক অঙ্গনে জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ছয়টি ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী দল আলাদা আলাদা কর্মসূচিতে রাস্তায় নামছে। দাবি—একই। নির্বাচন থেকে শুরু করে শাসন কাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত।
দলগুলোর ঘোষিত দাবিগুলোতে মূলত জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থান, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই সনদের ভিত্তিতেই আয়োজন করতে হবে। একই সঙ্গে সংসদের দুই কক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর পদ্ধতি) চালু করা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ক্ষমতাসীন সরকারের দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং জাতীয় পার্টিসহ বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার দাবি তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিন্ন সনদে দাঁড়িয়ে একাধিক দলের একযোগে রাস্তায় নামা আসন্ন নির্বাচনের আগে একটি সমন্বিত কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াত ও অন্যান্য ছোট ইসলামী দলগুলো নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং সমমনা ভোটারদের আশ্বস্ত করতেই এ কর্মসূচি বেছে নিয়েছে।
আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা শীর্ষ সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত এই আয়োজনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম বাদ জোহর উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করবেন।
একই দাবিতে বাদ আছর উত্তর গেটেই সমাবেশ ডেকেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধানের নেতৃত্বে সমাবেশ হবে। প্রেসক্লাব এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টায় খেলাফত আন্দোলন এবং বিকেল ৩টায় খেলাফত মজলিস আলাদা বিক্ষোভ করবে। ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কর্মসূচি শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়। শুক্রবার সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে দলগুলো। তবে এদিন বিসিএস পরীক্ষা থাকায় সকাল বেলা কোনো ধরনের সমাবেশ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন জামায়াতসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
এই কর্মসূচি ঘোষিত হয় গত সোমবার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে। নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, ‘জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।’ একই দিনে অংশীদার দলগুলোও অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, সরকারবিরোধী আন্দোলনে এখনো বড় জোট বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেখা না গেলেও বিভিন্ন ইসলামী দল ও জামায়াতের সমন্বিত রাস্তায় নামা আসন্ন নির্বাচনের কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করছে।
পতাকানিউজ/এনটি

