চট্টগ্রামে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমবারের মতো কোনো মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। গত বছরের ৩ জুলাই গুলিবর্ষণে দোকান কর্মচারী মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৭) নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৩১ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলায় ১২৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ১৫টি ভিডিও ফুটেজ এবং ৪১টি ছবি বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই মো. নুরুল হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় চার্জশিট জমা দেন। এরপর বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রসিকিউশন শাখা থেকে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয় বলে জানিয়েছেন আদালতের কোর্ট শাখার জেনারেল রেকর্ডিং অফিসার (জিআরও) মো. আনিস।
জিআরও মো. আনিস জানান, মামলার বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
চার্জশিটে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চার্জশিটে অভিযুক্ত ২৩১ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবদুচ ছালাম, দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুন ও নোমান আল মাহমুদ।
এছাড়া চসিকের সাবেক কাউন্সিলর জহুরলাল হাজারী, এসরারুল হক, নুর মোস্তফা টিনু, পুলক খাস্তগীর, সলিমুল্লাহ বাচ্চু, জিয়াউল হক সুমন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামও চার্জশিটে রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট এলাকায় আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সাবেক সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৭)।
তিনি নগরের কোতোয়ালী থানার কদমতলী এলাকার একটি জুতার দোকানে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার ১৬ দিন পর, ১৯ আগস্ট নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মধ্যে ওই বছরের ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় নগরীর ষোলশহর এলাকায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর বাসভবন এবং বহদ্দারহাট মোড় এলাকায় তৎকালীন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুলিবর্ষণে শহিদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বহদ্দারহাটে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এবং মেয়রের বাসায় হামলা ঠেকাতে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তারা গুলি ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে।
পতাকানিউজ/আরএস/এসকে

