জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে আরো একটি জাহাজ। রাতে ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ নোঙর করবে বন্দরে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান আহত বাঘের মতোই পাল্টা হামলা শুরু করে। এরপর বন্ধ করে হরমুজ প্রণালি। সেই কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট শুরু হলে বাংলাদেশেও পড়ে প্রভাব। সেই নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে সরকার সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
সেই ধারাবাহিকতায় আজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে জেট ফুয়েলবাহী একটি জাহাজ। রাতে আরো দুটি জাহাজ আসছে ডিজেল নিয়ে। ফলে জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে কেটে যাবে বলে দাবি করছে সরকার।
বিপিসি দাবি করছে, জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং সরবরাহ যথাযথভাবে চালু থাকছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে জেট ফুয়েলবাহী জাহাজ ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে নোঙর করে। জাহাজটিতে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল রয়েছে। এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, নতুন এই চালান যুক্ত হওয়ার আগে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল প্রায় ২২ হাজার টন, যা দিয়ে আনুমানিক ১৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল। সেই ১৫ দিনের মজুদের সঙ্গে নতুন করে এই জাহাজের তেল যুক্ত হলো। এতে স্বস্ত্বি বেড়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জেট ফুয়েলের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও সীমিত। চলতি এপ্রিলের ১ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ২১ হাজার টন, দৈনিক গড় ১ হাজার ৭৫৮ টন। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল প্রায় দেড় হাজার টন। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় এখন মজুত আরও কিছুটা বেড়েছে, যা বিমান চলাচলের জ্বালানি নিরাপত্তায় বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে।
আসছে ডিজেল
এদিকে ডিজেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও বড় ধরনের দুটি চালান আজ রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রথম জাহাজ ‘এমটি টর্ম দামিনি’-তে রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল, সরবরাহকারী দেশ সিঙ্গাপুর। একই সময়ে ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ নামের আরেকটি জাহাজে আসছে প্রায় ৩৫ হাজার টন ডিজেল।
দেশের মোট জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেলের অংশই সবচেয়ে বড়-প্রায় ৬৩ শতাংশ। পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন।
এর আগে মাসের শুরুতে ৩ এপ্রিল আরও দুটি বড় চালানে মোট ৬১ হাজার টন ডিজেল দেশে আসে। সব মিলিয়ে মাসজুড়ে একাধিক চালানের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন, দৈনিক গড় ১১ হাজার ১৩৮ টন। একই সময়ে সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল বলে জানিয়েছে বিপিসি।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, চলমান মাসে একাধিক জাহাজে জ্বালানি তেল আসছে এবং সামনে আরও চালান রয়েছে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষায়, চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
অবশ্য, সরকার তরফ থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট নেই দাবি করা হলেও পেট্রল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি এখনো অব্যাহত রয়েছে। এতে ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ছে।
-পতাকানিউজ

