পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান।
দন্ডপ্রাপ্ত ব্যাক্তি ফারুক হোসেন (৪০) উপজেলা সদরের সিংগাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক দুধ ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিকর জেলি, সয়াবিন তেলসহ নানা উপকরণ ব্যবহার করে নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। সেই দুধ তিনি দেশের নামকরা বিভিন্ন সিলিং সেন্টারে সরবরাহ করতেন।
শুক্রবার গভীর রাতে ফারুকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত ২শ লিটার (বিষাক্ত কেমিক্যাল) জেলি জব্দসহ ফারুককে আটক করা হয়। জব্দকৃত জেলির আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান ফারুককে এক লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। জব্দকৃত জেলি জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ফারুক হোসেন নিরাপদ খাদ্য আইন অমান্য করে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ নকল দুধ উৎপাদন করে আসছিলেন। অপরাধ স্বীকার করায় তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম জানান, দুধে ব্যবহৃত এসব রাসায়নিক উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ভেজাল উপাদানগুলো সরাসরি কিডনি ও ফুসফুসকে অকেজো করে দিতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন এ দুধ সেবনের ফলে শ্বাসকষ্ট ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি ঝুঁকি রয়েছে।
পতাকানিউজ/এমএসআর/আরবি

