মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। তবে এর মধ্যেই সুখবর দিলেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু। তিনি বলেছেন, তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জ্বালানি তেল নিয়ে দুটি জাহাজ দেশে আসছে।’
শনিবার, ৭ মার্চ বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। অসাধু উপায়ে কেউ তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হবে। এছাড়া ৯ মার্চ তেলবাহী দুটি জাহাজ (ভেসেল) দেশে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। তবে বাস্তবে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংকট এড়াতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনাও প্রস্তুত করে রেখেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সেসব বিকল্প উৎস ব্যবহার করা হবে।’ তবে গুজব বা আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘প্যানিক হয়ে কেউ যেন প্রয়োজনের বেশি তেল সংগ্রহ না করেন। এতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়।’
এদিকে শুক্রবার, ৬ মার্চ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। প্রাইভেট কারে ১০ লিটার এবং এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল দেয়া যাবে।
এছাড়া ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেয়া যাবে।
পতাকানিউজ/আরবি

