সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় যুক্তিতর্কের সময় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আমির হোসেন এই আইনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই আইনে বিচার প্রক্রিয়াকে ‘হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে আসামিকে বলা হবে এখন সাঁতার কাটো’ বলে অভিহিত করেন।
আজ সোমবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুরুতে আইনজীবী আমির হোসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন যে এই আইনে সাক্ষ্য আইনের (এভিডেন্স অ্যাক্ট) সঠিক ব্যবহার বা ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি সাবেক জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে আইনজীবী আহমাদ বিন কাসেম আরমানের একটি পুরনো ভিডিওর বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, ‘এই আইনে ব্যাপক সীমাবদ্ধতার মধ্যে বিচার হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারকে বিঘ্নিত করছে। আমির হোসেনের মতে, এই আইনের অধীনে বিচার কার্যত আসামিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়ার সমতুল্য।’
মানতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আসামি।
স্বীকারোক্তি: আসামি মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পলাতক: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক থাকায় তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন আমির হোসেন।
যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে আমির হোসেন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে (ফরমাল চার্জ) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দুর্নীতির সর্বগ্রাসী চর্চার প্রসঙ্গ আনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঢালাও বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।’
জবাবে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন যে ‘সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আমলে নেওয়ার সুযোগ আছে’ এবং ‘আপনারাই তো এই আইন তৈরি করেছেন।’
আইনজীবী আমির হোসেন ট্রাইব্যুনালের মন্তব্যের জবাবে বলেন, গণমাধ্যমে এলেই সবকিছু সত্য হয়ে যায় না এবং অন্যান্য আইনে পত্রপত্রিকার সংবাদের বিশেষ মূল্য নেই। তিনি আরও যুক্ত করেন, শেখ হাসিনা আইন করেছেন বলেই যে তা ভালো আইন হয়েছে, এমন নয়; ভুল মানে ভুলই।
রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) তাদের যুক্তিতর্ক ইতোমধ্যে শেষ করেছে। আজ থেকে আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করলেন। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হয়, তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
পতাকানিউজ/এনটি

