চট্টগ্রামে ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা সম্প্রতি প্রণীত ‘ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ খসড়া আইন ২০২৫’-এর তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে অধ্যাদেশটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার, ২২ নভেম্বর সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আটাব (ATAB) ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ট্রাভেল ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে চলছে। অথচ হঠাৎ করে ‘কালো আইন’ নামে পরিচিত নতুন অধ্যাদেশ জারি করে ট্রাভেল ট্রেডকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
বক্তারা দাবি করেন, খসড়ায় থাকা কয়েকটি ধারা দেশের ট্রাভেল ট্রেডের জন্য ‘চরম ক্ষতিকর’। এর মধ্যে— অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা জামানত, এজেন্সিগুলোর মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ, জেল ও জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব। এগুলোকে অযৌক্তিক, অবাস্তব ও ব্যবসাবান্ধব নয় বলে মন্তব্য করেন তারা। তাদের দাবি, এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ট্রাভেল এজেন্সির টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে এবং লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তদের সহযোগিতায় নির্বাচিত আটাব কমিটিকে বাতিল করে সংগঠনকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। সিন্ডিকেট পরিচালিত একটি নীলনকশা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই নতুন খসড়া আইন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বক্তারা বলেন, দেশের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নীতিমালা সংশোধন করতে হবে। প্রয়োজনে আটাব, বায়রা, হাব ও টুয়াবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করা উচিত।
বক্তারা আরও জানান, আগামী ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে অধিকাংশ এজেন্সির নবায়নের মেয়াদ শেষ হবে। ইতোমধ্যে জমা দেওয়া ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি অবৈধ ও অনিবন্ধিত এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তোলা হয়।
আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন আটাবের সাবেক ইভিপি এইচ.এম. মুজিবুল হক শাকুর। বক্তব্য দেন মুহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া, আবু তাহের, শরিয়ত উল্লাহ শহীদ, আজাহারুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল খালেক, আবদুল মালেক, ওসমান গনি, এস. এম. মাসুদ, আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ রফিক, হেমায়েত উদ্দীন, গিয়াস উদ্দীন, মোহাম্মদ ইসমাইল, নাসির উদ্দীন, আবু বক্কর তালুকদার, আব্দুল মান্নান, এম.এইচ. মহিউদ্দীন, মাসুদ করিম, ফারুক আহমদসহ অনেকে।
চট্টগ্রামের প্রায় দুই শতাধিক ট্রাভেল এজেন্সির মালিক মানববন্ধনে অংশ নেন। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল না হলে তারা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
পতাকানিউজ/কেএস

