যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজা সম্পূর্ণ ধ্বংস ও পশ্চিম তীর দখলের অলিখিত অনুমতি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব ড. মুস্তাফা বারঘুতি। গাজায় চলমান গণহত্যা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
বারঘুতি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনের চেয়েও ভয়াবহ অপরাধ করছে ইসরায়েল। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু পশ্চিমা দেশ নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগে বাধা দিচ্ছে। যদিও জার্মানি, স্পেন ও নরওয়ের মতো কয়েকটি দেশ ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা সীমিত করছে, তবু তা পর্যাপ্ত নয়।’
তাঁর দাবি, গাজায় ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, যা একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা। বিশ্ব যদি এখনই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠোর নিষেধাজ্ঞা না দেয়, তাহলে গাজার কোনো ফিলিস্তিনিই বাঁচবে না।

বারঘুতি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প কখনোই ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র’ শব্দটি ব্যবহার করেননি, যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখলের অনুমতি দিচ্ছেন।
এছাড়া, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করছেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ না করে বরং সহায়তা জোরদার করছে।
তিনি বিশ্বের সকল দেশ ও নাগরিক সমাজের প্রতি ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়া এই গণহত্যা থামানো যাবে না।
বারঘুতি পশ্চিমা মিডিয়ার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, ‘গাজার ভয়াবহতা নিয়ে তারা নিরব, কিন্তু ইসরায়েলের বক্তব্য অন্ধভাবে প্রচার করছে।’
গাজায় ইসরায়েলের অভিযান ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা অব্যাহত থাকলে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেন বারঘুতি। তাঁর মতে, ট্রাম্পের নীতিই ইসরাইলকে আরও উসকানি দিচ্ছে।
আল-জাজিরা-
পতাকানিউজ/এনটি

