মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার (৯ মার্চ) প্রায় এক ঘণ্টা ফোনে আলোচনা করেছেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত এবং বিশ্বজ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, ক্রেমলিন জানিয়েছে।
ফোনালাপটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সীমিত চলাচল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, চলতি বছর প্রথমবারের মতো দুই নেতা সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় পুতিন ইরান যুদ্ধ দ্রুত সমাধানের প্রস্তাব দেন এবং ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতি ও ভেনেজুয়েলার বাজার প্রভাবের বিষয়ও আলোচনা হয়। ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আমার ভালো আলোচনা হয়েছে। তিনি ইরান বিষয়ে সহায়তা করতে আগ্রহী।’ তিনি আরও যোগ করেন, ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত দ্রুত শেষ করা হলে তা সবচেয়ে কার্যকর সহায়তা হবে।
পুতিন ফোনালাপে সতর্ক করেছেন, ইরান যুদ্ধ বিশ্বজ্বালানি সংকট সৃষ্টি করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল তেল সরবরাহ শিগগিরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পুতিন বলেন, রাশিয়া বিশ্বজুড়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করতে প্রস্তুত, যদি ইউরোপ দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতায় ফিরতে চায়।
এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ভাবছে। এতে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ভারতের মতো কিছু দেশকে রুশ তেল কিনতে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি এই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘তেলের দাম কমাতে আমরা নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে দিচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা তা চালু রাখব না। পরে হয়তো আর নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনই পড়বে না।’
ফোনালাপের পরে উভয় পক্ষই আলোচনা ‘গঠনমূলক’ এবং ‘বাস্তবসম্মত’ বলে বর্ণনা করেছে। রুশ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেছেন, এই আলাপ ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্প ও পুতিনের সরাসরি যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বিশ্বজ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এ অস্থিরতার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানোর কথা ভাবছে। এ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যেই ঘোষণা আসতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ফলে তেলের সরবরাহে যে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার আয় বন্ধ করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনার মধ্যে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অথবা ভারতের মতো নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে, যাতে তারা মার্কিন শাস্তির ভয় ছাড়াই রুশ তেল কিনতে পারে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তেলের দাম কমাতে আমরা নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি। কিছু দেশের ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেব।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এরপর কে জানে, হয়তো আর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজনই পড়বে না। তখন হয়তো শান্তি ফিরে আসবে। তবে সময় এলে মার্কিন নৌবাহিনী ও সহযোগীরা প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ–ঘাটতি মেটাতে গত সপ্তাহে ভারতকে সমুদ্রপথে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল সাময়িকভাবে কেনার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : রয়টার্স
-পতাকানিউজ

