প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আইসিটি খাতের সব অংশীজনের সম্মিলিত মেধা ও চিন্তাশক্তি প্রয়োগ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সৃজনশীল চিন্তা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সমন্বিত চর্চাই একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ সভ্যতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
শনিবার রাতে রাজধানীর বনানী ক্লাবে বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (বিআইএসএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠন : টেলিকম, ডেটা ও সাইবার নিরাপত্তা বিল ২০২৬’ শীর্ষক নীতি সংলাপে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর ও বিরল খনিজ সম্পদ বৈশ্বিক ক্ষমতার অন্যতম নির্ধারক হয়ে উঠেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের তালিকায় এখন প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি প্রধানদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা প্রমাণ করে প্রযুক্তির শক্তি এখন দেশ ও সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে, অতীতে যুদ্ধ ও সংঘাতের মূল কারণ ছিল জ্বালানি সম্পদ, কিন্তু বর্তমানে তা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল যুগে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইসিটি খাতের বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও ডিজিটাল উন্নয়নের বাস্তবতা সাধারণ মানুষের তুলনায় বিশেষজ্ঞরাই ভালোভাবে বোঝেন, তাই তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিআইএসএ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে আইসিটি খাতের বিনিয়োগকারী, শিল্প উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, টেলিকম ও সাইবার নিরাপত্তা বিল ২০২৬-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ ধরনের উন্মুক্ত সংলাপ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুরক্ষা ও উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) এবং বিআইএসএ-এর প্রধান উপদেষ্টা মুস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউক।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্সের সভাপতি ফয়সাল আলিম। সংলাপে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা, আইন বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা, ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে প্রযুক্তি খাতের সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় ও নীতিগত সহযোগিতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও কার্যকর আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
-তথ্য সূত্র : বাসস
-পতাকানিউজ

