আসন্ন শীতে পথশিশু ও গরীব-দুঃখীদের মাঝে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নগর ফুল শীতবস্ত্র বিতরণ করবে। এর আগেও চট্টগ্রাম মহানগরের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি শিরীষ তলায় বেশ ভালোভাবে আয়োজন করে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছিল সংগঠনটি। শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য অনুমতি চেয়ে রেলওয়ে ভবনে প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থপাক (পূর্ব) দপ্তরে যান নগর ফুলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বায়েজিদ সুমন। সেখানে গিয়ে হতভম্ব ও আশাহত হন তিনি। তাকে ধরিয়ে দেয়া হলো একটি সরকারি নির্দেশনা। যেখানে বলা হয়েছে, শিরীষ তলায় একদিনের অনুষ্ঠান করতে হলে গুনতে হবে প্রায় অর্ধলাখ টাকা।
বায়েজিদ সুমন বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নগর ফুল, অপয়া-বাতিল ও অবহেলার শিকার ছেলেমেয়েদের জীবন হাসি-খুশি ও ভালোবাসায় ভরে দিতে কাজ করছে। গত ১০ মৌসুম সিআরবি এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। এছাড়া এ এলাকায় পথশিশুদের পড়ালেখা করিয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামি ১২ ডিসেম্বর শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য অনুমতি নিতে গিয়েছিলাম রেল ভবনে। রেলওয়ে প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (পূর্ব) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, অনুষ্ঠানের অনুমতির জন্য ১৫ থেকে ২০ দিন পূর্বে যোগাযোগ করতে হবে। কল্যাণ দপ্তর থেকে ৫০০ টাকা (অফেরতযোগ্য) দিয়ে আবেদন ফরমের মাধ্যমে অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। সোনালি ব্যাংকে এ টাকা জমা করতে হবে। সিআরবি শিরিষ তলা প্রতি ঘণ্টার জন্য ১৭৫০ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। এছাড়া নূন্যতম ৬ ঘন্টার জন্য ভাড়া নিতে হবে এ প্রাঙ্গণ।’
বায়েজিদ সুমনের এ তথ্যর সত্যতা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে সিআরবি শিরিষ তলায় একটি অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে যান পতাকা প্রতিবেদক। এসময় রেলওয়ে (পূর্ব) ওয়েল ফেয়ার ইনেসপেক্টর মাহবুবুর রহমান প্রতিবেদককে ১২টি শর্ত সম্বলিত একটি আবেদন ফরম দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সিআরবি শিরীষ তলায় অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে শুধু অনুমতি নয় এখন থেকে ভাড়া গুণতে হবে। সোনালী ব্যাংকে ৫০০ টাকা জমার রশিদ দিলে আবেদন ফরম দেয়া হবে। এরপর নির্দিষ্ট দিনের জন্য নির্ধারিত হারে ভাড়া দিতে হবে।’

ভাড়ার পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘রাস্তা বাদে শিরীষ তলা মাঠের আয়তন ১ দশমিক ৪৩৭৫ একর অর্থাৎ ৬২ হাজার ৬১৭ বর্গফুট। প্রতি বর্গফুট ২০০ টাকা হারে বাৎসরিক ১ কোটি ৫০ লাখ ২৮ হাজার ৮০ টাকা, মাসিক ১২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪০ টাকা ও দৈনিক ৪২ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি ঘণ্টার জন্য ১৭৫০ টাকা নূন্যতম ৬ ঘণ্টা অথবা ১০ হাজার টাকা এর মধ্যে যেটি বেশি তা প্রযোজ্য হবে।’
চট্টগ্রাম মহানগরের কোলাহল, ধোঁয়া আর কংক্রিটের দালানের ভিড়ে এক টুকরো শান্তির নাম সিআরবি শিরীষতলা। শতবর্ষী শিরীষ গাছের সারি, পাখির ডাক আর সকালবেলার শিশিরভেজা বাতাস এ যেন এক প্রাকৃতিক নিরাময়ের জায়গা। যারা একবার এখানে আসে, তাদের মন ভরে যায় প্রকৃতির স্নিগ্ধতায়। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় শিরীষতলার প্রাণচাঞ্চল্য। হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম, দৌড়ানো কিংবা নিছক নিরিবিলি বসে থাকা সবই হয় এখানে। সপ্তাহান্তে বন্ধুদের আড্ডা, ছোটদের খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠান মিলিয়ে এটি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় খোলা স্থান। এ এলাকায় পরিচালিত হয় চট্টগ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নানা অনুষ্ঠান। পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু করে নানান সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর থাকে এ প্রাঙ্গণ। সম্প্রতি একটি নতুন দাবি নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শিরীষ তলায় অনুষ্ঠান বা প্রোগ্রাম করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দিতে হবে। এই অনুশীলন সাংস্কৃতিক-সাধারণ মানুষের উপযোগী কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২০১৭ সাল থেকে চট্টগ্রামের অপর উন্মুক্ত ময়দান ডিসি হিলেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। তখন ডিসি হিলে পয়লা বৈশাখ ছাড়া অন্য সব ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে পহেলা বৈশাখের কর্মসূচিতেও বাধ সাধেন ডিসিরা। অথচ এর আগে ডিসি হিলে বছরের বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করত। এখানে একটি মুক্তমঞ্চও রয়েছে।
ডিসি হিলের পর সিআরবিও ভাড়া দেয়া মূলত চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করারই পাঁয়তারা বলে মনে করছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। তারা বলছেন, মহানগরের অক্সিজেন ফ্যাক্টরি খ্যাত সিআরবি এখন ভাড়া দিয়ে রেলওয়ে নিজেদের আখের গোছাতে চাইছে। কেননা, ভাড়ার টাকা মূলত যাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিআরএসসিবি) অ্যাকাউন্টে। খরচও হবে বিআরএসসিবি’র উন্নয়ন এবং ক্রীড়া খাতে।
সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, রেলওয়ের শত শত একর জমি বেহাত হয়ে আছে, সেসবের দিকে নজর নেই, অথচ যে স্থান চট্টগ্রামের ফুসফুস বলে খ্যাত সে স্থানকেই সংকুচিত করার এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গর্হিত। রেলওয়ের মতো প্রতিষ্ঠান দেশের বড় সম্পত্তি ধরে আছে, যা সাধারণ ব্যবহার ও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত। যদি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকে, উদ্বেগ তৈরি হয়। এছাড়া বিশেষ উৎসব-সংস্কৃতির জন্য স্থান সহায়তা পাওয়া অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক সমতা ও অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। ভাড়া বা অনুমতির অকারণ বাধা থাকলে, অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হ্রাস পেতে পারে বলেও ধারণা স্থানীয়দের।

এর আগেও একবার সিআরবিতে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলো আওয়ামী লীগ সরকার। তখন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে বাধ্য করেন।
‘সরকারি কর্মকর্তারা চট্টগ্রামে চাকরি করতে আসলে নিজেদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা ভাবেন- বলছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান মারুফ রুমি। তিনি পতাকানিউজকে বলেন, ‘বড় বড় বাংলোতে থেকে চট্টগ্রামবাসীকে তাদের প্রজা ভাবতে থাকে। ব্রিটিশ জমিদারদের মত তারা চট্টগ্রামবাসীর ওপর যা নয় তা করবে তা তো হয় না। সরকারি কর্মকর্তাদের চট্টগ্রামে চাকরি করতে হলে এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। চট্টগ্রামের সংস্কৃতি চর্চা, সামাজিক চর্চা, কথা বলার জায়গায় খর্গ চালানোর দায়িত্ব তাদের কে দিয়েছে? এটি চট্টলাবাসী মানবে না।’
‘ইউনূস সরকারের তত্বাবধানে এ নির্দেশনা হয়ে থাকলে এটি সম্পূর্ণ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। এছাড়া যদি রেলের কর্মকর্তারা করে থাকে তবে এই জমিদারিত্ব করার হেডাম চট্টগ্রামবাসী তাদের দেবে না। এ নিয়ে আন্দোলন হবে। চট্টগ্রাম নগরবাসী এ সংস্কৃতিক চর্চা গড়ে তুলেছে। এটিতে কেউ হাত দিয়ে সেই হাত ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে’ বলেও জানান রুমি।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সোহেল আনোয়ার বলেন, ‘সেবা সংস্থা রেলওয়ের কেন এখান থেকে পয়সা ইনকাম করতে হবে? এ বিষয়ে সংস্কৃতি কর্মীদের রেলওয়ের সঙ্গে কথা বলা উচিৎ। সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন এক হয়ে স্মরকলিপির মাধ্যমে একটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। প্রতি সময় আমাদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে হয়। কিন্ত বাস্তব চিত্র উল্টো হওয়া উচিৎ। সংস্কৃতি প্র্যাক্টিসের জন্য সুযোগ দেয়া উচিৎ। এটি টেবিলের আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রামে বেশ কিছু অডিটোরিয়াম রয়েছে। এসব অডিটোরিয়াম ব্যবহারের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তা তো সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেই। এছাড়া যারা স্বোচ্ছাসেবী সংগঠন আছে তাদের জন্য ওই টাকা দিয়ে মাঠ ভাড়া করে কার্যক্রম পরিচালনা বাস্তবেই কঠিন হবে।’
উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জের সভাপতি ফারুক তাহের বলেন, ‘শিরীষ তলায় ভাড়া দেয়ার বিষয়ে গত ১ বছর আগে কথা হয়েছিল। তবে যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে তা অনেক বেশি। যেহেতু রেলওয়ের জমি, ভাড়া তারা চাইতে পারে। তবে তা সহনীয় পর্যায়ে হলে ভালো।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তোগীনের কাছে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ওয়েল ফেয়ার অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে ফোন কল কেটে দেন।

১২ শর্তে কি রয়েছে?
ওই নির্দেশনায় বলা হয়, শিরীষতলা প্রাঙ্গণটি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সদর দপ্তর সংলগ্ন হওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ের দাপ্তরিক, সুষ্ঠু ও সুন্দর কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য শুধুমাত্র শুধুমাত্র সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ও সরকারি ছুটির দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অথবা বিশেষ ক্ষেত্রে মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মহোদয়ের নির্দেশক্রমে অফিস ডে-তে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শিরীষতলা বরাদ্দ দেয়া হবে। এ সকল অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি কোন নির্দেশনা থাকলে তা প্রাধান্য পাবে। অতিরিক্ত সময় ব্যবহার করলে অনুষ্ঠানের ধরণ দেখে মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মহোদয় ভাড়া প্রদান স্বাপেক্ষে বর্ণিত সময় বাড়াতে টাকার বিবরণ কমাতে পারবেন ।
অস্থায়ী ফুডকোর্ট/ডালার লাইসেন্স নিতে আগ্রহীরা সোনালী ব্যাংক সিআরবি শাখার (বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড) (বিআরএসসিবি) অ্যাকাউন্টে ৫০০ টাকা জমা করে কল্যাণ দপ্তরে ব্যাংক রশিদ দিয়ে ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ব্যাংকে জমা করা অর্থ অফেরতযোগ্য।
সকল ক্ষেত্রেই বৈদ্যুতিক সংযোগ নিজ দায়িত্বে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে না। তবে বিদ্যুৎ বিল প্রদান সাপেক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সেবা পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
আয়োজক ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান-কে নিজ দায়িত্বে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশে মসজিদ হওয়ায় নামাজের সময় মাইক/সাউন্ড বন্ধ থাকবে। আবেদনকারী তাঁর অনুষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান-কে দোকান/জায়গা/স্বত্ব ভাড়া দিতে পারবেন না। অন্যথায় বরাদ্দ বাতিল বলে গণ্য হবে।
বর্ণিত ভাড়ার হারে পার্কিং সুবিধা অন্তর্ভুক্ত নয়। অনুষ্ঠান চলাকালীন সংলগ্ন রাস্তায় পার্কিং করা যাবে না। যানবাহন চলাই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
অনুষ্ঠান চলাকালীন যেকোন সময়ে কোন শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে পারবে। এক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বজায় থাকবে।
অনুষ্ঠানে কোন প্রকার রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড বা রাজনৈতিক বক্তব্য/কর্মকান্ড, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোন বক্তব্য দেয়া বা প্রদর্শন করা যাবে না।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুমতি প্রয়োজন হলে তা আয়োজক সংস্থা সংগ্রহ করবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি যেকোন সময় অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করতে পারবে। আয়তন ও নির্দিষ্ট সীমারেখা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ওয়াকওয়ে/ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী ফুডকোর্ট বা ডালা বসানো যাবে না এবং কোন চেয়ার বা বসার ব্যবস্থা করা যাবে না।
কোন অনুষ্ঠানে আয়োজক কর্তৃক এন্ট্রি পাশের প্রচলন থাকলে বাংলাদেশ রেলওয়ের জিএম (পূর্ব) এর অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের প্রবেশাধীকারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রান্সফারেবল পাশ দিতে হবে।
শুধুমাত্র বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুডকোট/ডালা বসার অনুমতি দেয়া হবে। শিরীষতলায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কোনভাবেই বিনষ্ট করা যাবে না। প্রতিদিন ফুডকোর্ট/ডালার আশে পাশে পড়ে থাকা আবর্জনা তাৎক্ষণিকভাবে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে এবং রাত ১০টার পর ডাস্টবিনসহ সরিয়ে ফেলতে হবে।
কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত ফুডকোটের ভাড়া (অফেরতযোগ্য) প্রদান স্বাপেক্ষে অস্থায়ী ফুডকোট/ডালা বরাদ্দ প্রদান করা হবে। ওয়েলফেয়ার ইন্সপেক্টরগণ নিয়মিত অস্থায়ী ফুডকোট সমূহ পরিদর্শন করবেন ও নিয়মের ব্যতিক্রম দেখলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অস্থায়ী ফুড কোর্টের লাইসেন্স গ্রহীতাগণ কোনো প্রকার ধূমপান, মাদক বা অসামাজিক ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। উপরে বর্ণিত নাই এমন কোন পরিস্থিতি/বিষয়ের সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ভাড়ার লেনদেন নিয়ন্ত্রণ
শিরীষতলার বরাদ্দের অর্থ সংরক্ষণের জন্য বিআরএসসিবি’র সোনালী ব্যাংক সিআরবি শাখায় ১টি চলতি/সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হবে। সিগনেটরি অথরিটি হবেন ৩ জন। তারা হলেন, সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার (পূর্ব), জুনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার (পূর্ব) ও বিআরএসসিবি’র একজন প্রতিনিধি। ৩ জনের মধ্যে ২ জনের স্বাক্ষরে/সমন্বয়ে অ্যাকাউন্টটি পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন ধরণের ক্রীড়া অনুষ্ঠানের জন্য শিরীষতলা থেকে প্রাপ্ত আয় বিআরএসসিবি’র উন্নয়ন এবং ব্যয় নির্বাহ করবে। প্রতি অর্থ বৎসরের শেষে হিসাব বিভাগ থেকে একজন অডিটর/একাউন্টস অফিসার নিয়োগ করে বাৎসরিক অডিট করতে হবে। তিনি সম্মানীর বিনিময়ে অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। বিআরএসসিবি’র কোনো ধরণের উন্নয়ন করা হলে ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে উক্ত ব্যয় নির্বাহ করা যেতে পারে।
এদিকে বুধবার, ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠনের জন্য ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফের দাবিতে রেলওয়েতে স্মারকলিপি দেয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তী প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য সোস্যাল অর্গানাইজেশন্স ফোরাম প্রধান সমন্বয়ক লায়ন বায়েজিদ সুমন উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান।
পতাকানিউজ/কেএস

