শীত নামলেই কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। সবুজ অরণ্য, পাহাড়ঘেরা পরিবেশ আর স্বচ্ছ জলের লেক—সবকিছুর সঙ্গে যোগ হয় শীতের অতিথি পরিযায়ী পাখির কলরব। লেকের জলে ভেসে থাকা হাঁসজাতীয় পাখির দল, আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য আর ডানার শব্দে ভরে ওঠা প্রকৃতি মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের।
প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের শুরুতেই ডুলাহাজারায় অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। তবে নিয়মিত দর্শনার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত নানা কারণে আগের তুলনায় পাখির সংখ্যা কিছুটা কম চোখে পড়ছে।
পার্ক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে হিমালয়ের উত্তরের অঞ্চলগুলোতে তীব্র শীত শুরু হলে সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারতের শীতপ্রধান এলাকা থেকে পরিযায়ী পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে পাড়ি জমায়। সেই যাত্রাপথে বাংলাদেশ হয়ে ওঠে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। প্রতিবছর দেশের যেসব এলাকায় অতিথি পাখির আগমন ঘটে, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক তার অন্যতম।
এ বছর পার্কের লেকে মূলত হাঁসজাতীয় পরিযায়ী পাখির আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সরালি, গার্গেনি, পচার্ড, পাতারি হাঁস, কোম্বডাক, জলকুক্কুট, খয়রা, কামপাখি, নর্দার্ন পিনটেইল, লাল গুড়গুটি, মানিকজোড়, জলপিপি ও বামুনিয়া হাঁসসহ নানা প্রজাতির পাখি। সকাল ও বিকেলের আলোয় এসব পাখির ওড়াউড়ি আর দলবদ্ধভাবে জলে ভেসে থাকার দৃশ্য যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত চিত্রকল্প।
চট্টগ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী উৎপল চৌধুরী বলেন, ‘শীতের এই সময়ে অতিথি পাখির কথা শুনেই পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি। বাচ্চারা পাখি দেখে খুব আনন্দ পাচ্ছে। প্রকৃতির সঙ্গে এমন সময় কাটানো সত্যিই দারুণ।’
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম জানান, প্রতিবছর শীত মৌসুমে পার্কের লেকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। তবে এবার সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাঁর মতে, অতিরিক্ত শীত ও পরিবেশগত পরিবর্তন এর একটি কারণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘অতিথি পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দর্শনার্থীদের পাখির দিকে ঢিল বা খাবার ছোড়া থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।’
প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করেন, ডুলাহাজারার মতো সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জলাশয় পরিযায়ী পাখির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। এসব পাখির আগমন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অতিথি পাখি ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় আরও সচেতন ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
শীতের রোদে ডুলাহাজারার লেকজুড়ে অতিথি পাখির এই আনাগোনা এখনো দর্শনার্থীদের টানছে। তবে পরিবেশগত অবক্ষয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য হারিয়ে যেতে পারে—এমন শঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে।
-পতাকানিউজ/এমজেসি

