সবসময় হাতের ব্যথা মানেই যে আর্থ্রাইটিস তা নয়। অনেক সময় ডেস্কে বসে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করলে হাতে ব্যথা হয়। সঠিক পজিশনে হাত রেখে কাজ না করলে কনুই থেকে কব্জি অবধি ব্যথা করে। যারা এই ধরণের ব্যথায় ভোগেন চিকিৎসকরা তাঁদের ব্যথানাশক ওষুধের বদলে ব্যায়াম করতে বলেন।
ব্যায়াম নিয়ে অনেকেরই তেমন ধারণা নেই। তার উপর হাতের ব্যথা নিয়ে কসরত করা মুশকিল। তাই যোগাসনই শেষ ভরসা। প্রতিদিন চেয়ারে বসে এই যোগাসন করেই দ্রুত কমবে হাতের ব্যথা।
হাত ও কাঁধের ব্যথা সহজে কমানোর আসন হলো কনুই বাঁকানো। এটি অষ্টাঙ্গ যোগের একটি যোগ এবং ভঙ্গিও খুব সহজ। এই আসন যেহেতু বসেই করা যায় সহজে, বয়স্করাও করতে পারেন।
কীভাবে করবেন এই আসন?
১) প্রথমেই চেয়ারে বা মাটিতে বসে পড়ুন। মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসতে হবে। মাথা ও ঘাড় সোজা থাকবে।
২) দুই হাত কোলের উপর রাখুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
৩) ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কাঁধ বরাবর দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত করে দিন। এসময় হাত টানটান রাখতে হবে।
৪) এরপর কনুই থেকে হাত ভাঁজ করে হাতের আঙুল দিয়ে কাঁধ স্পর্শ করাতে হবে। কয়েক সেকেন্ড স্বাস নিয়ে আবার সামনের দিকে সোজা করতে হবে।
৫) হাত ভাঁজ করা ও খোলা, এই পদ্ধতি ৫বার করে করলে এক সেট পূর্ণ হবে। একই ভাবে ৩ থেকে ৪ সেট দৈনিক অভ্যাস করতে হবে। অভ্যস্ত হয়ে গেলে আরও বেশী বারও করা যেতে পারে।
এই আসনের উপকারিতাঃ
১) হাতের ব্যথা কমবে, ও পেশি সক্রিয় হবে।
২)ফ্রোজেন শোল্ডারের সমস্যা থাকলে, কাঁধে যন্ত্রণা বা কাঁধ নাড়াতে কষ্ট হলে এই আসনে উপকার পেতে পারেন।
৩) কব্জির ব্যায়াম হবে তাই সারাক্ষণ মাউস বা মোবাইল ধরে রাখার কারণে যে ব্যথা হয় সেটাও কমে যাবে।
৪) হাতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ার কারণে দ্রুত ব্যথা কমবে।
কারা এই আসন করবেন না?
১) কনুইয়ে আঘাত থাকলে বা হাতের হাড়ে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।
২) হাড়ের দুর্বলতা থাকলে বা হাড় ভঙ্গুর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আসটি করা যাবে না।
পতাকানিউজ/কেএ

