ঢাকা-১৮ আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন খুবই জটিল। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পূর্বনির্ধারিত হওয়ায় দলটির মাঠ কার্যক্রম অনেকটা গোছানো। নাগরিকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থী আশরাফুল হক ও দলের সক্রিয় নেতাকর্মীরা। উঠান বৈঠক থেকে গণসংযোগ, সামাজিক কার্যক্রম—সবই তারা চালাচ্ছেন নিয়মিত।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনও এই আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। সোমবার (৩ নভেম্বর) সারাদেশে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও ঢাকা-১৮ ফাঁকা রাখা হয়েছে। দলটির তৃণমূলের নেতারা এ অবস্থায় দোলাচলে রয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আক্তার হোসেন এবং সদস্য সচিব মোস্তফা জামান এই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
মোস্তফা জামান স্থানীয় পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং উঠান বৈঠক করছেন। স্থানীয়রা জানান, এসব সভায় নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সম্প্রতি তিনি উত্তরার স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। মোহাম্মদ আক্তার হোসেনও প্রতিদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং তাদের দোয়া ও ভোট চাচ্ছেন।
বিএনপির তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন, ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রার্থী হলে বিএনপি সমঝোতার ভিত্তিতে আসন ছেড়ে দিতে পারে। তাই সমঝোতার আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ছবি ও প্রচারণামূলক ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
আসনের অন্য প্রার্থীরাও সক্রিয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেয়ামতুল্লাহ আমিন নিজেদের প্রতীকে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন।
ঢাকা-১৮ আসনটি বিমানবন্দর এলাকা, অর্থাৎ বৃহত্তর উত্তরার ছয়টি থানা জুড়ে বিস্তৃত। এখানে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১ হাজার ৮৭০, নারী ভোটার ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির দীর্ঘদিনের কার্যক্রমে এ আসনের মানুষ তাদের প্রার্থীদের চেনেন। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ২০২০ সালের উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগের শাসনের কঠিন সময়ে তিনি তৃণমূলের কর্মীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তিনি ব্যানার, পোস্টার, গণসংযোগ এবং মসজিদে কুশলবিনিময় কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
জামায়াতের প্রার্থী আশরাফুল হকও স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সচেতনভাবে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। খিলক্ষেত থানা জামায়াতের কর্মী মহসিন হোসেন সম্প্রতি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেছেন। তারা বিশ্বাস করেন, প্রার্থী জয়লাভ করতে হলে নির্বাচন পর্যন্ত পাঁচ-ছয় মাস আগ থেকেই প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।
ঢাকা-১৮ আসনে রাজনৈতিক দোলাচল এখন স্পষ্ট। জামায়াত মাঠে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে, বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করায় দোলাচলে, আর এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আলোচনা চলে সামাজিক মাধ্যমে। সমঝোতা বা জোট সৃষ্টির আগে আসনটি কোন দলের হবে, তা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে নজর রেখে বলা যাচ্ছে না।
পতাকানিউজ/এনটি

