চট্টগ্রামে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, গোপনে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
ভুক্তভোগী আফসানা আক্তার ববি (২২) নগরের পতেঙ্গা থানার কাঠগর এলাকার বাসিন্দা। ২০২৩ সালে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস করছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের পর তোফাজ্জল হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ওই ব্যক্তি তাকে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকায় একটি জেনারেল হাসপাতালে চাকরির ব্যবস্থাও করে দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর জোরারগঞ্জের মাইনদ্দিন পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় একটি বাসা ভাড়া করে দেন তোফাজ্জল। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি।
এ সময় গোপনে ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে বিয়ের কথা বললে তাকে মারধর করা হতো বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে বিয়ে না করায় ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ এলাকায় অন্য একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন।
এরপরও থামেননি অভিযুক্ত। ভুক্তভোগীর নতুন বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে সেখানে গিয়ে আবারও সম্পর্কের জন্য চাপ দেন। রাজি না হলে তার ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। অভিযোগ আছে, পরবর্তীতে ওইসব ছবি-ভিডিও আরেক ব্যক্তি মো. মানিকের কাছেও সরবরাহ করেন তোফাজ্জল।
গত ৮ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দুজন মিলে তাকে হোটেলে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। অন্যথায় সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ১২ এপ্রিল জোরারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় রুজু করা হয়েছে।
র্যাব-৭ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ফেনীর মহিপাল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে প্রধান আসামি তোফাজ্জল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার ধুমপাড়া এলাকার আম্বিয়া ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে অপর আসামি মো. মানিককেও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব। ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
-পতাকানিউজ

