প্রায় দুদশক পর পীর-আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২২ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ২১ জানুয়ারি রাতে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন। পরদিন সকালে তিনি সিলেট নগরীর দরগাহ মহল্লায় অবস্থিত হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং শহরের উপকণ্ঠ খাদিমনগরে অবস্থিত হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল ১১টায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
এরপর দুপুর ১টায় তিনি সড়কপথে মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুর এলাকায় অবস্থিত আইনপুর প্লে গ্রাউন্ড মাঠে দ্বিতীয় জনসভায় যোগ দেবেন। এর আগের স্থান ছিল কুলাউড়া নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ ও মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। তবে এ দুটি ভেন্যু বাতিল করা হয়েছে। জনসভায় মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দিবেন। পরে তিনি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশে মাঠে আরেকটি জনসভায় অংশ নেবেন।
জেলা বিএনপির প্রস্তুতি
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি, উপজেলা ও পৌর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং চারটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের অংশগ্রহণে একটি যৌথ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জনসভাকে সফল করতে সকলের মতামতের ভিত্তিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঞ্চ নির্মাণ, মাইকিং ব্যবস্থা, প্যান্ডেল স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী দল গঠন, যানবাহন পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক সভা ও মাঠ পরিদর্শন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর মৌলভীবাজারে বিএনপির জনসভা অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলা বিএনপি নেতারা আশা করছেন, এ জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে।
অতীতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান নিজ জেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘদিন পর একই এলাকায় তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে খলিলপুরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মনুমুখ ও আখাইলকুড়া ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তারেক রহমানের কাছে মৌলভীবাজার জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা তুলে ধরতে আগ্রহী। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপন, মৌলভীবাজার সদর জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সেবা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত করা, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালুকরণ, ঢাকা শ্রীমঙ্গল রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু করা।
জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ (সদর–রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে মৌলভীবাজারে তারেক রহমান আসছেন। সিলেট বিভাগের তিনটি জায়গায় জনসভা করবেন তিনি। এর মধ্যে একটি সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে, আরেকটি মৌলভীবাজার আইনপুর প্লে গ্রাউন্ডে, আরেকটি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তা গঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সের ভরাট করা স্থানে থানার বিপরীতে বিশাল মাঠে। আমাদের জন্য এটা বিরাট সুযোগ, তাকে স্বাগত জানানোর। আগামী ২২ জানুয়ারি দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ইনশাআল্লাহ তিনি আইনপুর মাঠে আসবেন।’
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি আহবায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, ‘আমরা এর আগে শহরের এক কনফারেন্স সেন্টারে জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সমূহের যৌথ সভা করেছিলাম। সেখানে আমাদের দলীয় প্রার্থী এম নাসের রহমান আমাদেরকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী আমাদের জেলায় চারজন দলের প্রার্থী আছেন তারা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আব্দুর রহিম রিপন বলেন, ‘আমরা মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। ইতিমধ্যে আমরা আইনপুর মাঠ পরিদর্শন করেছি। ইনশাআল্লাহ, আমাদের নেতাকে বরণ করার জন্য স্থানীয় মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এখানে একটি স্মরণকালের জনসভা হবে।’
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আইনপুর মাঠ আমাদের নিজের এলাকা। খলিলপুর, মনুমুখ ও আখাইলকুড়ার একটি অংশ। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখানে এসেছেন। এবার আমাদের দলের চেয়ারম্যানকে নিজের এলাকায় পাচ্ছি, এটি আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।”
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০০৫ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারেক রহমান সিলেট সফর করেছিলেন। সে সময় তিনি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি সিলেটকে তার ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ উল্লেখ করেছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, প্রত্যাশা ও উৎসাহ বিরাজ করছে।
পতাকানিউজ/এসআই/আরবি

