বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্ম এবং বেড়ে উঠা সম্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়া দম্পতির বড় সন্তান তারেকের জন্ম ১৯৬৫ সালে। তিনি বাবা হারান মাত্র ১৬ বছর বয়সে।
বাবা হারানোর পর ছোটভাই আরাফাত রহমান কোকো এবং তিনি ছিলেন ওই সময়ের গৃহবধূ মা খালেদা জিয়ার কাছে। সেই গৃহবধূ একদিন রাজনীতির মাঠে এলেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীও হলেন খালেদা জিয়া। সেই সুবাধে তারেক জিয়া যেন হলেন রাজপুত্র।
রাজপুত্রের মতোই রাজকীয় জীবনযাপনের ধারাবাহিকতায় নানা চড়াই উৎরায় পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা হারানো এবং ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের পর তারেক জিয়া যেন দেখেন নতুন পৃথিবী। সেই সময় অবর্ণনীয় নির্যাতন আর কারাবাস। শেষে ২০০৮ সালে নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়েছিল তাঁকে।
আজ আমরা ভাবতে পারি, ২০০৮ সালে যখন তিনি ওই সময়ের তত্ত্বাবধাক সরকারের সঙ্গে আলাপ করে বাংলাদেশ ত্যাগ করছিলেন, মানে নির্বাসনে যাচ্ছিলেন, তখন কি ভেবেছিলেন তিনি ফের ফিরবেন বাংলার মাটিতে? জীবনে কি আর ছুঁয়ে দেখা হবে বাবা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের মাটি?
সেদিন তিনি তা ভেবেছিলেন কি না- তা জানা সম্ভব হয়নি। তবে বাস্তবে তিনি বাংলাদেশে পুনরায় ফিরেছেন। ফের বাংলার মাটি ছুঁয়েছেন। কিছু মাটি হাতে নিয়ে তিনি যেন বাংলাদেশের স্পর্শ বুকে আগলে নিতে চেয়েছেন। ২৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই তিনি মাটিতে গিয়ে দাঁড়ান। পায়ের জুতো খুলে মাটিতে দাঁড়িয়ে স্পর্শ যেন। তারপর কিছু মাটিও হাতে নেন। এই যেন বাংলা মায়ের স্পর্শ।
তারপর তিনি ঢাকার ৩০০ ফুটের দিকে যাত্রা করেন। তারেক রহমানের সংবর্ধনাস্থলে গিয়ে বক্তব্য রাখেন। এই প্রত্যাবর্তন রাজকীয়। লাখো মানুষের ঢল নামে ঢাকায়। রাজপথ যেন মানুষের বন্যায় ভেসে যায়। অথচ ২০০৮ সালে যখন তিনি দেশ ছেড়েছিলেন, তখন বাংলাদেশের অনেক মানুষ হয়তো ভেবেছিলেন, তিনি আর বাংলার মাটিতে ফিরতে পারবেন না। ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে তিনি ঠিকই ফিরেছেন মায়ের কাছে। দেশের মানুষের কাছে।
এখন আগামী নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি আর ভার্চুয়ালি যু্ক্ত হবেন না। সরাসরি মাঠ থেকেই নেতৃত্ব দেবেন। নির্বাচনের ফল কি হতে পারে তা অনুমেয়। কিন্তু নিশ্চিত কিছু নয়। ১২ ফেব্রুয়ারির আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভবও নয়। তারপরও এটা বলা যায়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের বিএনপিকে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্য সব দল যাতে সমানতালে নির্বাচনের মাঠে লড়তে পারে, সেই দিকেও বিএনপিকে খেলায় রাখতে হবে। দলটির অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এখন থেকেই নানা অভিযোগ উঠছে, সেসব অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এখন থেকেই।
যাই হোক, তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় ফিরে আসার মধ্য দিয়ে এটা প্রতীয়মান হয় যে, জোরপূর্বক কাউকে নির্বাসনে রাখা যায়, তার জনপ্রিয়তায় ধস নামানো যায় না। অন্তত আজকের জনতার ঢল তাই প্রমাণ করেছে। তাই রাজনীতিতে হিংসা নয়, পারস্পরিক সহমর্মিতাই পারে দেশে কল্যাণকর রাজনীতির সুবাতাস ফিরিয়ে আনতে। তাহলে সব দলের জন্যই সুবিধা হয়। আর জনগণও স্বস্তিতে থাকতে পারে।
পতাকানিউজ/কেএস

