বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে এক দিনের মধ্যেই ‘ট্রাভেল পাস’ দেয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তাঁর মতে, তারেকের দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের কোনো বাধা নেই।
রবিবার, ৩০ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে আসতে চাইলে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তাকে এক দিনেই ট্রাভেল পাস দেয়া সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করবে।’
ওয়ান–ইলেভেনের পর ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকেই তিনি বিদেশে থেকে বিএনপির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। গত বছরের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে তারেকের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার সাজা বাতিল হয়। তখন থেকেই তাঁর দেশে ফেরার গুঞ্জন জোরালো হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁর জরুরি দেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনা বাড়ে। কিন্তু লন্ডন থেকে গতকাল ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারেক রহমান লিখেছেন— ‘মায়ের স্নেহস্পর্শের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও এটি এখন আমার একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন—‘রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছামাত্রই দেশে ফেরা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’ তার কয়েক ঘণ্টা পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিজের ফেসবুকে লেখেন— ‘তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিষয়ে সরকারের কোনো বিধিনিষেধ বা আপত্তি নেই।’
ভারতে পালিয়ে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে প্রথমে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য সরকারের কাছে নেই বলে জানান তৌহিদ হোসেন। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন—ভারত দ্রুতই তাকে ফেরত পাঠাবে বলে তিনি ‘মোটামুটি নিশ্চিত’।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করলে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে কি না—এ প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে শুধু একটি ইস্যুতে সম্পর্ক আটকে থাকবে না।’
পতাকানিউজ/কেএস

