বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
পূর্ব প্রকাশের পর
৩-৮১ : স্মরণ কর, যখন আল্লাহ্ নবীদের অঙ্গীকার লইয়াছিলেন যে, তোমাদেরকে কিতাব ও হিক্মত যাহা কিছু দিয়াছি, অতঃপর তোমাদের কাছে যাহা আছে তাহার প্রত্যায়নকারীরূপে যখন একজন রাসূল আসিবে তখন তোমরা অবশ্যই তাহার প্রতি ঈমান আনিবে এবং তাহাকে সাহায্য করিবে।’ তিনি বলিবেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করিলে? এবং এই সম্পর্কে আমার অঙ্গীকার কি তোমরা গ্রহণ করিলে?’ তাহারা বলিল, ‘আমরা স্বীকার করিলাম।’ তিনি বলিলেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সঙ্গে সাক্ষী রহিলাম।’
৩-৮২ : ইহার পর যাহারা মুখ ফিরাইবে তাহারাই সত্যপথত্যাগী।
৩-৮৩ : তাহারা কি চাহে আল্লাহ্র দীনের পরিবর্তে অন্য দীন ? যখন আকাশে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু রহিয়াছে সমস্তই স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় তাঁহার নিকট আত্মসমর্পণ করিয়াছে ! আর তাঁহার দিকেই তাহারা প্রত্যানীত হইবে।
৩-৮৪ : বল, ‘আমরা আল্লাহ্তে এবং আমাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে এবং ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া‘কূব ও তাহার বংশধরগণের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছিল এবং যাহা মূসা, ‘ঈসা ও অন্যান্য নবীকে তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে যাহা প্রদান করা হইয়াছে তাহাতে ঈমান আনিয়াছি, আমরা তাহাদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না এবং আমরা তাঁহারই নিকট আত্মসমর্পণকারী।’
৩-৮৫ : কেহ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দীন গ্রহণ করিতে চাহিলে তাহা কখনও কবূল করা হইবে না এবং সে হইবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
৩-৮৬ : আল্লাহ্ কিরূপে সৎপথে পরিচালিত করিবেন সেই সম্প্রদায়কে, যাহারা ঈমান আনয়নের পর ও রাসূলকে সত্য বলিয়া সাক্ষ্যদান করিবার পর এবং তাহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসিবার পর কুফরী করে? আল্লাহ্ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
৩-৮৭ : ইহারাই তাহারা যাহাদের কর্মফল এই যে, তাহাদের উপর আল্লাহ্র, ফিরিশতাগণের এবং মানুষ সকলেরই লা‘নত।
৩-৮৮ : তাহারা ইহাতে স্থায়ী হইবে, তাহাদের শাস্তি লঘু করা হইবে না এবং তাহাদেরকে অবকাশও দেওয়া হইবে না।
৩-৮৯ : তবে ইহার পর যাহারা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করিয়া নেয় তাহারা ব্যতিরেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৩-৯০: ঈমান আনার পর যাহারা কুফরী করে এবং যাহাদের সত্য প্রত্যাখ্যান – প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পাইতে থাকে তাহাদের তওবা কখনও কবূল হইবে না। ইহারাই পথভ্রষ্ট।
৩-৯১: যাহারা কুফরী করে এবং কাফিররূপে যাহাদের মৃত্যু ঘটে তাহাদের কাহারও নিকট হইতে পৃথিবীপূর্ণ স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করিলেও তাহা কখনও কবূল করা হইবে না। ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে ; ইহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।
৩-৯২: তোমরা যাহা ভালবাস তাহা হইতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করিবে না। তোমরা যাহা কিছু ব্যয় কর আল্লাহ্ অবশ্যই সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।
৩-৯৩: তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইসরাঈল নিজের জন্য যাহা হারাম করিয়াছিল তাহা ব্যতীত বনী ইস্রাঈলের জন্য যাবতীয় খাদ্যই হালাল ছিল। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং পাঠ কর।’
৩-৯৪: ইহার পরও যাহারা আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা সৃষ্টি করে তাহরাই জালিম।
৩-৯৫: বল, ‘আল্লাহ্ সত্য বলিয়াছেন। সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠ ইব্রাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর, সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নহে।’
৩-৯৬: নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল তাহা তো বাক্কায়, উহা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী।
৩-৯৭: উহাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন মাকামে ইব্রাহীম। আর যে কেহ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যাহার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্জ করা তাহার অবশ্যকর্তব্য। এবং কেহ প্রত্যাখ্যান করিলে সে জানিয়া রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।
৩-৯৮:বল, ‘হে কিতাবীগণ ! তোমরা আল্লাহ্র নিদর্শনকে কেন প্রত্যাখ্যান কর ? তোমরা যাহা কর আল্লাহ্ উহার সাক্ষী’।
৩-৯৯: বল, ‘হে কিতাবীগণ ! যে ব্যক্তি ঈমান আনিয়াছে তাহাকে কেন আল্লাহ্র পথে বাধা দিতেছ, উহাতে বক্রতা অন্বেষণ করিয়া ? অথচ তোমরা সাক্ষী। তোমরা যাহা কর, আল্লাহ্ সে সম্বন্ধে অনবহিত নন।’
৩-১০০: হে মু’মিনগণ ! যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে, তোমরা যদি তাহাদের দলবিশেষের আনুগত্য কর, তবে তাহারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কাফির বানাইয়া ছাড়িবে।
– চলবে
–পতাকানিউজ

